আত্রাইয়ে সরিষা ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমীরা

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই: উত্তর জনপদের শস্যভান্ডার খ্যাত নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় শীতের শেষে যেন হলুদে মোড়া এক স্বপ্নিল জনপদ। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠজুড়ে এখন কেবল সরিষা ফুলের সমারোহ। শীতের শিশিরভেজা সকালে ও সোনালি রোদের ছোঁয়ায় সরিষার সবুজ গাছের হলুদ ফুল ঝিকিমিকি করছে—প্রকৃতি যেন সেজেছে গায়ে হলুদের বর্ণিল সাজে।
চারপাশের মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধ, মৌমাছির গুনগুন আর প্রজাপতির ওড়াউড়িতে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর এক প্রাকৃতিক পরিবেশ। ভোরের বিন্দু বিন্দু শিশির আর সকালের মিষ্টি রোদে দোল খাওয়া ফুলগুলো প্রকৃতিপ্রেমীদের টেনে আনছে মাঠে মাঠে।
এই নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসছেন আত্রাইয়ে। কেউ প্রিয়জন, কেউ বন্ধু-বান্ধব নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন সরিষা ক্ষেতে। অনেকেই মোবাইল ফোন ও ক্যামেরায় বন্দি করছেন এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। দেখে মনে হয়, এটি কোনো ফসলের মাঠ নয়—একটি খোলা পর্যটনকেন্দ্র।
গত কয়েক বছর ধরে সরিষা চাষে ভালো লাভ হওয়ায় এ উপজেলার কৃষকেরা সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় সরিষার পাশাপাশি আলু, গম ও ভুট্টারও বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কৃষকেরা এখন ভালো ফলনের আশায় দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার আটটি ইউনিয়নে প্রায় চার হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। শুরুতে কিছু এলাকায় পোকার আক্রমণ দেখা দিলেও মাঠ পর্যায়ে কৃষি অফিসের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তায় এখন অধিকাংশ ক্ষেতই রোগবালাইমুক্ত রয়েছে।
কৃষি অফিসের তথ্যমতে, শাহাগোলা, ভোঁপাড়া, মনিয়ারী ও আহসানগঞ্জ ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি সরিষা চাষ হয়েছে।
উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের কৃষক আজাদ প্রামানিক জানান, তিনি চলতি মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি একর জমিতে অন্তত ১০ মণ সরিষা উৎপাদনের আশা করছেন তিনি।
জাতোপাড়া গ্রামের কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় সরিষাসহ অন্যান্য ফসলের আবাদ করেছি। আশা করছি, বিগত বছরের তুলনায় এবার ফলন অনেক ভালো হবে।”
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান ও মারজিয়া পারভিন জানান, অধিক ফলনের জন্য কৃষকদের পরিমিত সার ব্যবহার, পানি সাশ্রয় ও নিয়মিত পরিচর্যার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এবার উপজেলার কোথাও পোকার আক্রমণ না থাকায় সব ইউনিয়নে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, “চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। অল্প খরচে অধিক ফলনের জন্য কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার কৃষকেরা ভালো ফলন ও বাড়তি মুনাফা পাবেন বলে আশা করছি।”




