পুঠিয়ায় হলুদ চাষে বিপ্লব

১০ কাঠা জমিতে ৯২ মন ফলনে চমক তরুণ কৃষকের

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২৬; সময়: ১১:৫২ am | 
খবর > কৃষি

মোহাম্মদ আলী, পুঠিয়া: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় দেশীয় হলুদের চাহিদা পূরণে ব্যতিক্রমী সাফল্যের নজির গড়েছেন গন্ডগোহালী গ্রামের তরুণ কৃষক মোঃ মিজানুর রহমান মিজান। মাত্র ১০ কাঠা জমিতে পাবনায়া জাতের হলুদ চাষ করে তিনি পেয়েছেন প্রায় ৯২ মন ফলন, যা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হলুদ উত্তোলনের সময় প্রতিটি গাছের ছরিতে দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত হলুদ পাওয়া যাচ্ছে। চোখধাঁধানো এই ফলন দেখে এলাকার অনেক কৃষকই হলুদ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

দীর্ঘদিনের হলুদ ব্যবসায়ী মাসুদ রানা বলেন, “আমি রাজশাহী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নিয়মিত হলুদ কিনে থাকি। কিন্তু আমার ব্যবসায়িক জীবনে এমন ফলনশীল হলুদ কখনো দেখিনি। পুঠিয়ার গন্ডগোহালী গ্রামের এই ১০ কাঠা জমি থেকেই আমি নিজে ৮০ মন হলুদ ওজন করে নিয়েছি। পাবনায়া জাতের হলুদের এমন ফলন এই অঞ্চলে এই প্রথম।”

হলুদ চাষি মিজানুর রহমান জানান, “আমি পাবনায়া জাতের হলুদ চাষ করেছি। ১০ কাঠা জমিতে মোট ফলন হয়েছে প্রায় ৯২ মন। এর মধ্যে ৮০ মন বিক্রি করেছি, ৪ মন পরবর্তী চাষের জন্য ঘরে রেখেছি এবং প্রায় ৮ মন হলুদের মোথা সংরক্ষণ করেছি। এই ফলন আমার প্রত্যাশারও অনেক বাইরে।”

তিনি আরও জানান, হলুদ চাষে তার মোট খরচ হয়েছে ২২ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি মন হলুদ ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। “লাভের হিসাব সহজেই বোঝা যায়। আমি অন্য কৃষকদের বলবো—বীজ কেনার সময় বাজারদরের চেয়ে ৫০০ টাকা বেশি হলেও ভালো মানের বীজ সংগ্রহ করবেন। এতে ফলন ও লাভ দুটোই বাড়বে,” বলেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, “আমরা সবসময় কৃষকদের পাশে আছি। উঁচু জমি, আমবাগান কিংবা পরিত্যক্ত জমি হলুদ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বর্তমানে বস্তায় করেও হলুদ চাষ হচ্ছে। সঠিক পদ্ধতিতে উচ্চ ফলনশীল হলুদ চাষ করা গেলে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদেশে রপ্তানিরও বড় সম্ভাবনা রয়েছে।”

স্থানীয় কৃষকদের মতে, মিজানুর রহমানের এই সাফল্য পুঠিয়ায় হলুদ চাষে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে এবং কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন