রাজশাহীর সেই কলেজ ঘিরে পিছু ছাড়ছে না বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও অসহযোগিতার অভিযোগের পর কলেজটির প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র বাতিল করেছে শিক্ষা বোর্ড।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বখতিয়ারপুর ডিগ্রি কলেজ, হাট কানপাড়া জোবায়দা কলেজ, ভেড়াপোড়া কলেজ এবং বড়গাছি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরীক্ষার্থীরা কয়েক বছর ধরে দাওকান্দি সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। তবে ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে অসহযোগিতা, প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র বিতরণে বিড়ম্বনা সৃষ্টি এবং অন্যান্য কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে।
বিশেষ করে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও দর্শন বিভাগের শিক্ষক এনামুল হক, ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক শফিকুর রহমান এবং ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বখতিয়ারপুর ডিগ্রি কলেজ ও হাট কানপাড়া জোবায়দা কলেজের অধ্যক্ষরা শিক্ষা বোর্ডে কেন্দ্র বাতিলের আবেদন করেন। পরে বোর্ড কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রটি বাতিল করে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এনামুল হক। তিনি বলেন, “ওইসব প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করছিল। শিক্ষকরা তাদের সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন। আমরা তা না করায় আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে।”
এদিকে কেন্দ্র বাতিলের প্রভাব পড়েছে দাওকান্দি সরকারি কলেজের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের ওপরও। আগে তাদের পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল পাশের মোহনপুর উপজেলার ধোপাঘাটা ডিগ্রি কলেজে। তবে এবার কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে দুর্গাপুর ডিগ্রি কলেজে, যা কলেজ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। অথচ ধোপাঘাটা ডিগ্রি কলেজের দূরত্ব ছিল মাত্র আধা কিলোমিটার।
অভিভাবকদের অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণেই শিক্ষার্থীদের এমন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। দাওকান্দি থেকে দুর্গাপুরের সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের অন্তত দুই ঘণ্টা আগে রওনা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
কেন্দ্র বাতিলের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিভাবক নওশাদ আলী বলেন, “দাওকান্দি কলেজ ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত। ১৯৮৬ সাল থেকে এখানে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল। কেন্দ্র বাতিল হওয়ায় কলেজটির দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।”
আরেক অভিভাবক অভিযোগ করেন, “কলেজটি এখন দুর্নীতি ও দলাদলির কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। শিক্ষকদের মধ্যেই বিভক্তি তৈরি হয়েছে। এখানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নেই।”
এ বিষয়ে দাওকান্দি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমি বর্তমানে গাড়িতে আছি। পরে এ বিষয়ে কথা বলব।”
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “দুইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে। আবেদনে দাওকান্দি কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসঙ্গতির অভিযোগ আনা হয়েছে।”




