অবহেলিত মানুষের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের নতুন অধ্যায়

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬; সময়: ১:৫২ pm | 
খবর > রাজনীতি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক আলোচনার মূলধারার বাইরে অবস্থান করছে। নির্বাচনের সময় সাময়িকভাবে গুরুত্ব পেলেও বছরের অধিকাংশ সময় তাদের জীবনসংগ্রাম, চাওয়া-পাওয়া ও বাস্তব সমস্যাগুলো উপেক্ষিত থেকে যায়। অথচ দেশের কৃষি, অর্থনীতি ও সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে উঠেছে এই মানুষের শ্রম, ত্যাগ ও অবদানের ওপর।

স্বাধীনতার পর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা ছিল- একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে তারা নাগরিক অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের সুফল ভোগ করবে। তবে বিভিন্ন কারণে সেই প্রত্যাশার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের নেতৃত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দেওয়া হয়।

রাজধানীকেন্দ্রিক রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে তিনি সরাসরি গ্রামবাংলার মানুষের কাছে যান। দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল সফর করে সাধারণ মানুষের সমস্যা, সম্ভাবনা ও চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নেন। গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ, খাল খনন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ তাঁর শাসনামলের উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে বিবেচিত হয়।

স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি এবং মাঠপর্যায়ে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। গ্রামাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার অনুভূতি তৈরি হয়।

তবে তাঁর মৃত্যুর পর সেই ধারাবাহিকতায় ভাটা পড়ে বলে অনেকের অভিমত। গ্রামীণ জনপদের মানুষ আবারও মূলধারার রাজনীতি থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধানও বাড়তে থাকে।

বর্তমানে অনেকের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করছেন। পিতার রাজনৈতিক দর্শন অনুসরণ করে তিনি তৃণমূলভিত্তিক রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই স্থানীয় নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন তিনি।

২০০২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন তৃণমূল সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা, কৃষকের চাহিদা এবং সাংগঠনিক বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগ বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

পরবর্তীকালে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখেন তারেক রহমান। তৃণমূলের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে দল পরিচালনার চেষ্টা বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করেছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফর অব্যাহত রেখেছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়, স্থানীয় সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হওয়া এবং সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে মাঠমুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখছেন বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি।

কক্সবাজার থেকে ঠাকুরগাঁও, চাঁদপুর থেকে দেশের অন্যান্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে স্থানীয়দের অনেকের মত। তাদের বিশ্বাস, গ্রামীণ অর্থনীতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে।

সমর্থকদের দাবি, বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল শক্তি যে গ্রাম ও প্রান্তিক মানুষ- এই উপলব্ধিকে সামনে রেখেই কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় পর তৃণমূলের মানুষেরা নিজেদের কথা বলার এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্ব পাওয়ার নতুন সুযোগ দেখতে পাচ্ছেন বলেও তারা মনে করেন।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন