আনচেলত্তির কৌশলেই বিদায়, নরওয়ের কাছে হারল ব্রাজিল
বলের দখল ছেড়ে পাল্টা আক্রমণের পরিকল্পনা ব্যর্থ, সুযোগ নষ্টের খেসারত দিয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ব্রাজিলের হতাশার গল্প আরও দীর্ঘ হলো। নরওয়ের কাছে ২-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর এই হারের পেছনে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। বিশ্লেষকদের মতে, বলের দখল ছেড়ে পাল্টা আক্রমণনির্ভর কৌশলই শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের সর্বনাশ ডেকে আনে।
মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর আনচেলত্তি কৌশলে পরিবর্তন এনে হাইতি, স্কটল্যান্ড ও জাপানের বিপক্ষে সাফল্য পেয়েছিলেন। ফলে শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষেও সেই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন তিনি। কিন্তু শক্তিশালী ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেই পরিকল্পনা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই নরওয়েকে বলের দখল ছেড়ে দিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে ব্রাজিল। প্রথম ১০ মিনিটেই নরওয়ের বল দখলের হার ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। দ্বিতীয় মিনিটে নরওয়ে গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে ব্রাজিল।
প্রথমার্ধের সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে ব্রুনো গিমারেসের পেনাল্টি থেকে। কিন্তু নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নাইলান্ড দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারাই পরে বড় মূল্য দিতে হয়েছে ব্রাজিলকে।
বাম প্রান্তে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির সমন্বয়ে কয়েকটি আক্রমণ তৈরি হলেও গোলের দেখা মেলেনি। অন্যদিকে মার্টিন ওডেগার্ডের সুযোগও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার।
বিরতির পরও একই কৌশল ধরে রাখে ব্রাজিল। এন্দ্রিক মাঠে নেমেই গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় আনচেলত্তির বদলির সিদ্ধান্তে।
মার্তিনেল্লি ও রায়ানকে তুলে নতুন খেলোয়াড় নামানোর পর ব্রাজিলের আক্রমণের ধার একেবারেই কমে যায়। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে নরওয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।
এরই ধারাবাহিকতায় বক্সে শেলড্রুপের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে জাল খুঁজে নেন আর্লিং হালান্ড। পরে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচ নিশ্চিত করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ব্রাজিল।
পরিসংখ্যানও ব্রাজিলের ব্যর্থতার চিত্র স্পষ্ট করে। পুরো ম্যাচে তাদের বল দখলের হার ছিল মাত্র ৩৪ শতাংশ, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে ব্রাজিলের সর্বনিম্ন। সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি সেলেসাওরা। অন্যদিকে নরওয়ে নিজেদের পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করে জয় নিশ্চিত করে।
২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয়হীন ব্রাজিলের হতাশা এবারও কাটল না। বরং আনচেলত্তির কৌশলগত সিদ্ধান্ত, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং সুযোগ নষ্ট—এই তিন কারণেই বিশ্বকাপে তাদের আরেকটি স্বপ্নভঙ্গের গল্প লেখা হলো।




