এক দিনে দুই পরীক্ষা, গরমের ছুটিই হলো শিক্ষার্থীদের গলার কাঁটা

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৩; সময়: ৮:৫৬ pm | 
খবর > রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী প্রচণ্ড গরম থেকে ভাল রাখতে দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছুটি ছিল গত ৮ জুন। তাই সেই দিনের পরীক্ষাটি আটকে থাকে শিক্ষার্থীদের। এখন ওই ছুটিই শিক্ষার্থীদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে একদিনে দুটি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রায় ৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একদিনে দুটি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

একদিনে দুটি পরীক্ষা গ্রহণের এই বিষয়টি অবিবেচকের মতো সিদ্ধান্ত বলছেন অভিভাবকেরা। কারণ, তিন ঘণ্টা করে দুটি বিষয়ে মোট ছয়ঘণ্টা পরীক্ষা দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। অন্যদিকে বর্ষা এলেও রাজশাহীর তাপমাত্রা কমেনি। গ্রামে লোডশেডিংও কমেনি। ফলে ছয়ঘণ্টা পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবকেরা। তাছাড়া দুটি পরীক্ষার প্রস্তুতিও ঠিকমতো নেওয়া সম্ভব হবে না বলে তাদের আশঙ্কা।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোদাগাড়ীতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির তিনটি গ্রুপ রয়েছে। এরমধ্যে নজরুল গ্রুপ ও শাহাদুল গ্রুপ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৮ জুনের পরীক্ষা নেওয়া হবে ২১ জুন। এরমধ্যে অষ্টমের শিক্ষার্থীদের একটি পরীক্ষাই হবে। তবে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে হবে দুটি।

স্থানীয় একজন শিক্ষক জানান, শিক্ষক সমিতির নজরুল গ্রুপের অধীনে ৯টি ও শাহাদুল গ্রুপের সঙ্গে গোদাগাড়ীর ২১টি স্কুল রয়েছে। এই ৩০ স্কুলের নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একদিনে দুটি পরীক্ষা দিতে হবে। আর শিক্ষক সমিতির বারী গ্রুপের অধীনে গোদাগাড়ীতে যে স্কুলগুলো আছে সেগুলোতে ৮ জুনের আটকে থাকা পরীক্ষা শনিবার ছুটির দিনে নেওয়া হয়েছে। তাই এসব স্কুলের শিক্ষার্থীদের ২১ জুন দুটি পরীক্ষা দিতে হবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোদাগাড়ীর পিরিজপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক বলেন, পাশের বিদিরপুর উত্তরা বালিকা বিদ্যালয় (বারী গ্রুপের অধীনে) ছুটির দিনে বকেয়া পরীক্ষা নিয়েছে। এর ফলে সেখানকার শিক্ষার্থীদের কোন চাপ হয়নি। কিন্তু নজরুল ও শাহাদুল গ্রুপের অধীনে থাকা ৩০টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য একদিনে দুটি পরীক্ষা খুব চাপ হয়ে গেছে।

দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মা বলেন, ‘আমার মেয়ের ২১ জুন পরীক্ষা আছে উচ্চতর গণিত। এই বিষয়টি এমনিতেই অনেক কঠিন। এর সঙ্গে আটকে থাকা ইংরেজী দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা দিতে হবে। সকাল ১০টা থেকে ১টা গণিত এবং ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ইংরেজি পরীক্ষা নেওয়া হবে। দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর জন্য এভাবে ছয়ঘণ্টা পরীক্ষা দেওয়া কঠিন।

নবম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘শিক্ষকেরা ছুটির দিনে ছুটি কাটাতে চান বলে এমন অবিবেচকের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে এটা আশা করা যায় না। কারণ, এখনও লোডশেডিং কমেনি, গরমও কমেনি। শিক্ষার্থীরা দুটি পরীক্ষা দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে দায় নেবে কে? তাছাড়া একদিনে দুটি পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করাটাও কঠিন। আমরা চাই, শিক্ষক সমিতি বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে একদিনে একটি পরীক্ষাই গ্রহণ করুক।

জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি (নজরুল গ্রুপ) ও পিরিজপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুল আলম তোতা বলেন, ‘শুক্রবার-শনিবার ছুটির দিন। শিক্ষকেরা ছুটি কাটাতে চান। সে জন্য শনিবার পরীক্ষাটা না নিয়ে ২১ তারিখে একসঙ্গে দুটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত আমার একার না। সমিতির দুটি গ্রুপই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

একদিনে শিক্ষার্থীদের দুটি বিষয়ের ছয়ঘণ্টা পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টকর বলে স্বীকার করেন প্রধান শিক্ষক মাহফুজুল আলম। তিনি বলেন, একদিকে একটু সুবিধা হলে অন্যদিকে একটু কষ্ট তো হবেই। কিন্তু বিষয়টি আমাকে না জানিয়ে অভিভাবকেরা আগে সাংবাদিককে জানাতে গেলেন কেন? আমাকে আপত্তি জানালেও তো বিষয়টি বিবেচনা করতাম। তাও বিষয়টি নিয়ে যখন কথা উঠেছে, আমি সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলব। দেখি কী করা যায়!

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা দুলাল আলম ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. নাসির উদ্দিনকে কয়েকদফা ফোন করা হয়। তবে তারা ফোন ধরেননি। তাই তাদের মন্তব্য জানা যায়নি।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন