সিরাজগঞ্জে হেনস্তার অভিযোগে ওসির বিরুদ্ধে নারীর মামলা

প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২৩; সময়: ৩:৩০ pm | 
খবর > আঞ্চলিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : হেনস্তার অভিযোগ এনে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানার ওসির শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন স্মৃতি ইসলাম হাওয়া (২৫) নামের এক নারী।

৯ আগস্ট (বুধবার) তাড়াশ থানা আমলী আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়। বৃহস্পতিবার বিচারক পিবিআইকে মামলাটি তদন্ত করার নির্দেশ দেন। বাদী স্মৃতি ইসলাম হাওয়া সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানার সাতকুর্শী গ্রামের জামাল উদ্দিনের মেয়ে।

এ মামলায় বাদী তার পেশাগত পরিচয় না দিলেও, সে এলাকায় চিহ্ণিত মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে নাটোরের গুরুদাসপুর থানার একটি ইয়াবা পাচারের মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বাদী স্মৃতি ইসলাম হাওয়া গত ২০ ফেব্রুয়ারি তারিখে ঢাকার উত্তরার মোটর বাইকের একটি শোরুম থেকে পাঁচ লাখ আটত্রিশ হাজার টাকায় একখানা ইয়ামাহা ব্যান্ডের মোটর সাইকেল কেনেন। এজন্য বিআারটিএ অফিস থেকে গত ১৭ জুলাই মোটর সাইকেলটির যাবতীয় ট্যাক্স পরিশোধ করে রেজিট্রেশন করেন।

মামলার বাদী বিআরটিএ অফিসে বিগত এক জানুয়ারি ২০২২ইং তারিখ হতে ৩১ ডিসেম্বর ২০৩১ইং তারিখ পর্যন্ত ১০ বছরের জন্য অপেশাদার মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণ করেন। যার লাইসেন্স নং- ডিকে ৩০৫১৮৩১০০সিএ ০০১।

মামলা সূত্রে জানা যায়, হাওয়া খাতুন গত ২৫ জুলাই ঘটনার দিন তাড়াশ উপজেলা সদরের সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন মিলনের বাড়ির গ্যারেজে তার মোটর সাইকেলটি রেখে তাড়াশ থানার মোড়ে এটিএম বুথে টাকা উত্তোলন করতে যান।

তখন তাকে রাস্তা রোধ করে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদ করে বলেন, আপনার মোটর সাইকেল কোথায়? আপনার মোটর সাইকেলের নিকট নিয়ে যান। বাদী তখন আসামিকে গ্যারেজে নিয়ে যান। এসময় বাদীনির মোটর সাইকেল তল্লাশি করে।

পুলিশ মোটর সাইকেলের যাবতীয় কাগজপত্র দেখতে চাইলে, বাদীনি তার সাথে থাকা মোটর সাইকেলটির রেজিট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ যাবতীয় মূল কাগজ প্রদর্শন করেন।

এসময় ওসি শহিদুল ইসলাম সকল কাগজপত্র দেখে, বাদীনির নিকট মোটর সাইকেলটির চাবি দিতে বলে। চাবি নিয়ে পুলিশ সদস্যকে ওসি মোটর সাইকেলটি থানায় নিয়ে যেতে বলেন। হাওয়া খাতুন তাতে বাধা দিলে নাকি আসামি কুরুচিপুর্ণ মন্তব্য করেন।

একপর্যায়ে মোটর সাইকেলটি জব্দ করার স্লিপ বা ডকুমেন্ট চাইলে ওসি হুমকি দিয়ে বলেন, কোনো প্রেসিডেন্ট আসলেও মোটর সাইকেল ছাড়ব না। ভুলেও আপনি আমার থানায় আসবেন না। আপনাকে যেন আমি কোনোদিন আর তাড়াশ না দেখি বলে হুমকি দেন, অভিযোগ করেন হাওয়া খাতুন।

অপরদিকে তাড়াশ থানার পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত ২৫ জুলাই তাড়াশ পৌর এলাকার বারোয়ারি বটতলায় অবৈধ যানবাহন আটকের জন্য এসআই দেবব্রতর নেতৃত্বে পুলিশ চেকপোস্ট বসালে, হাওয়া ইসলাম স্মৃতির নামের ওই নারী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

এসময় তিনি তার মোটর সাইকেলের বৈধ কোনো কাগজপত্রও দেখাতে পারেনি। এরপর তিনি বিভিন্ন গুরুপূর্ণ ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে বলে, সারাদেশে আমার গাড়ির কোনো কাগজপত্র লাগেনা। এমনকি এসআই দেবব্রত বিশ্বাসের চাকুরি খাওয়ারও হুমকিও দেন।

এ খবর শোনার পরপরই ওসি শহিদুল ইসলাম নারী কনস্টেবল নিয়ে ঘটনা স্থলে যান এবং ওই নারী কনস্টেবল কে দিয়ে পার্শ্ববর্তী সাবেক এমপির বাড়িতে নিয়ে তার দেহ ও ব্যাগ তল্লাশী করেন। সেখানে অবৈধ কিছু না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

কিন্তু মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র, ডাইভিং লাইসেন্স এমন কি ডিজিটাল রেজিষ্ট্রেশন নম্বর না থাকায় গাড়িটি আটক করা হয়।মামলার বাদী মোছা: স্মৃতি ইসলাম হাওয়া সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানার সাতকুর্শী গ্রামের জামাল উদ্দিনের মেয়ে।

এ প্রসঙ্গে মামলার বাদী স্মৃতির ইসলাম হাওয়ার মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করেও বন্ধ থাকায় তার মতামত নেয়া যায়নি। তাড়াশ থার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, আইন মেনেই মোটরসাইকেলটি আটক করা হয়েছে এবং তাকে যথারীতি কেস স্লিপ দেয়া হয়েছে।

আদালতেও আইনীভাবেই কাগজপত্র পাঠনো হয়েছে। তার সাথে পুলিশের পেশাদারিত্বে যেটুকু আচরণ সেটুকুই সর্বসাধারণের সামনে করা হয়েছে। বরং মামলার বাদীই পুলিশের সাথে অশালীন আচরণ করেছেন।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন