পবা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সরব হচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা

প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২৪; সময়: ৯:৩৭ অপরাহ্ণ |
পবা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সরব হচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : কিছুদিন আগেই উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। উৎসবের আমেজ শেষ হতে না হতেই এবার আসছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় উপজেলা নির্বাচনেও প্রার্থী দেবে না বিএনপি এমনটাই জানা গেছে। এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনেই অংশ নেবে না পণ করেছে তারা। যারা প্রার্থী হবেন তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

এবার দলীয় প্রতিক (নৌকা) না থাকায় নির্বাচনে প্রার্থী হতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ব্যাপক তোড়জোর লক্ষ করা যাচ্ছে। পবা উপজেলায় অন্তত ১২ জন প্রার্থী মাঠে নামছেন বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে দলীয় সমর্থনের জন্য তাদের লড়াই শুরু হচ্ছে। আবার দলীয় প্রতিক থাকবে না-এমন অবস্থায় দলের বাইরের অনেকে এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজেদের সামর্থ ও সমর্থন জানান দিবেন বলে জানা গেছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে শুরু করেছেন গণসংযোগসহ নানান তৎপরতা। এই রমজানে তারা ইফতার বিতরণ থেকে শুরু করে সামাজিক নানা কর্মকান্ডে নিজেদের মেলে ধরছেন। এমনকি হাটে বাজারে পাড়ার মোড়ে মোড়ে গণসংযোগসহ দোয়া চাচ্ছেন তারা।

উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এই উপজেলায় প্রার্থী তালিকায় যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন আলী, ভাইস চেয়ারম্যান শিক্ষক ওয়াজেদ আলী খান, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান মানজাল, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, সাবেক দপ্তর সম্পাদক ফারুক হোসেন ডাবলু, পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ভুলু, নওহাটা পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান, পবা উপজেলা যুবলীগ সভাপতি এমদাদুল হক।

এরমধ্যে একজন প্রার্থী ফারুক হোসেন ডাবলু। তিনি ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ ত্যাগি ও নির্যাতিত নেতা হিসেবে দাবি করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে জানান। তিনি রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ সাবেক দপ্তর সম্পাদক। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি পবা ও জেলা যুবলীগের বিভিন্ন পদে এবং জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে ছিলেন ও আছেন। তিনি নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ শাখা সহসভাপতি (১৯৯২-১৯৯৩) ও রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগ (১৯৯২-১৯৯৫) এবং দামকুড়া ইউনিয়ন শাখা (১৯৯১-১৯৯৪) সভাপতি ছিলেন।

রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন খেলাধুলা সামাজিক সাংস্কৃতিক কাজের সাথে জড়িত আছেন। বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করা ও পরিচালনার ক্ষেত্রেও অত্র এলাকার বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

রাজনীতির শুরু থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ডাকে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে নিজেকে একনিষ্ঠ ভাবে নিয়োজিত এবং বিভিন্ন সময় তার উপর দলীয় অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনীতির পথ চলায় তিনি বিভিন্ন সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেক মামলার আসামী হয়ে রিমান্ডসহ কারা ভোগ করেছেন তিনি।

১৯৮৯ সালে স্বৈরাচার সরকার বিরোধী আন্দোলনে মিছিল করতে গিয়ে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন। ১৯৯২ সালে নিউ ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষে মারাত্মক ভাবে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। ১৯৯৬ সালে ১৫ইং ফেব্রুয়ারী প্রহসনের নির্বাচনের প্রতিহত করতে গিয়ে পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে প্রায় ১(এক) মাস গৃহহারা জীবনযাপন করেন।

২০০১ সালে পহেলা অক্টোবর নির্বাচনের প্রচারনা করতে গিয়ে বি.এন.পি জামায়াতের সঙ্গে বিরোধের কারণে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বিএনপি জোট জয়লাভ করার পর ১৭ অক্টোবর তাকে হত্যা করার ঘোষণা দিয়ে আক্রমন করে। সেই আক্রমন প্রতিহত করতে গিয়ে তার সহদর ছোট ভাই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম ও ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মালেক পল্টু সহ বঙ্গবন্ধর আদর্শের অনেক সৈনিক মারাত্মক ভাবে আহত হয়।

এই ঘটনায় সরকারের প্রভাব খাটিয়ে তিনিসহ ১৯ (উনিশ) জনকে আসামী করে মামলা করে এবং সে মামলা পুলিশে নির্যাতনের শিকার হয়ে ৮ দিন হাজত বাস করেন। এই মামলায় কোন ভিত্তি না থাকায় পরেও তিনিসহ সকল আসামীদের বিরুদ্ধে ৬ (ছয়) মাসের সাজা প্রদান করেন।

২০০৬ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধানে সরকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং মুক্তির দাবিতে পবা উপজেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল করেন তিনি। সেই মিছিলের খবর দেশের সকল মিডিয়া ও বি.বি.সি বাংলা পরিবেশন করে। সেই মিছিলের কারণে যৌথবাহিনী অব্যাহত গ্রেফতারের ভয়ে প্রায় দুই মাস গৃহহারা মানবেতর জীবন যাপন করেছেন।

বিভিন্ন আন্দোলন ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং তার নির্দেশে বিভিন্ন সময় রাজপথে সম্মুখে থেকে আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন। এখনও রাজপথে দলের আদর্শের সৈনিক হিসেবে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।

বর্তমানে তিনি পবা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সাংগঠনিক কর্মকান্ড নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনারবাংলা গড়ায় প্রত্যয় তার দীপ্ত অঙ্গিকার বলে জানান তিনি।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে