মুরগির বাজারে গেলে ‘মাথা ঘুরছে’ ক্রেতার

প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২৪; সময়: ১২:৩৪ অপরাহ্ণ |
মুরগির বাজারে গেলে ‘মাথা ঘুরছে’ ক্রেতার

পদ্মাটাইমস ডেস্ক:  দামের লাগাম এখনও টানা যায়নি প্রাণিজ আমিষের। চড়া দরেই কিনতে হচ্ছে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি। এ অবস্থায় মুরগির বাজারে গেলে ‘মাথা ঘুরছে’ ক্রেতার। ঘাম ছুটে যায় জিরা আর আলুর বাজারের উত্তাপেও। কমেনি মরিচের ঝাল। এ ছাড়া চাল, আটা, তেল, চিনির মতো নিত্যপণ্যের বাজার আগে থেকে বেড়ে যাওয়া উচ্চমূল্যে স্থির হয়ে আছে।

মুরগির দাম বাড়ার জন্য ব্যবসায়ীরা সাম্প্রতিক তীব্র তাপমাত্রায় মুরগি মরে যাওয়া, উৎপাদন কমে যাওয়া ও পথে চাঁদাবাজিকে দায়ী করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে তদারকি নেই। তাই যে যার মতো জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছেন। যদিও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর বলছে, তদারকি অব্যাহত রয়েছে। গতকালও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিভিন্ন অপরাধের দায়ে সারাদেশের ১৩০টি প্রতিষ্ঠানকে ২১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। তবে বাজারে এর কোনো প্রভাব দেখা যায়নি।

এখনও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে মুরগির মাংস। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির জন্য ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকা। এক-দেড় মাস ধরে এ দরেই বেচাকেনা হচ্ছে ব্রয়লার। বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে সোনালি জাতের মুরগি। এ মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৭০ থেকে ৩৯০ টাকায়। অবশ্য, সপ্তাহ দু’য়েক আগে এ মুরগির কেজি ৪০০ টাকা ছুঁয়েছিল।

সুখবর নেই গরুর মাংসপ্রেমীদের জন্যও। প্রতি কেজি কিনতে গেলে ক্রেতাকে খরচ করতে হবে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। আর খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার থেকে ২৪০ টাকা দরে ব্রয়লার মুরগি কেনার পর আব্দুল কাদের নামের এক ক্রেতা সমকালকে বলেন, ‘বাজারে গিয়ে ব্রয়লারের দাম শুনলে মাথা ঘুরছে। দুই কেজির একটা মুরগি কিনলে ৫০০ টাকা শেষ।’

একই বাজারের জরিনা ব্রয়লার হাউসের বিক্রয়কর্মী আরিফুর রহমান বলেন, ‘কাপ্তান বাজার থেকে সেগুনবাগিচায় মুরগি আনার সময় রাস্তায় সরকারদলীয় কর্মী ও পুলিশকে তিন দফায় চাঁদা দিতে হয়। এ ছাড়া মাঝেমধ্যে দু-একটা মুরগি মরেও যায়। বিক্রির সময় আমাদের এসব বাড়তি খরচ হিসাব করে দাম নির্ধারণ করা লাগে।
বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, সাম্প্রতিক তীব্র তাপমাত্রায় প্রান্তিক খামারিরা অনেক লোকসানের শিকার হয়েছেন। বাজার নিয়ন্ত্রণে ছোট খামারিদের উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে হবে।

মুরগির দর বাড়ার প্রভাব দেখা গেছে ডিমের বাজারে। বড় বাজারে ফার্মের বাদামি রঙের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। তবে পাড়া-মহল্লায় ও এলাকাভিত্তিক ছোট বাজারগুলো থেকে এক হালি কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৩ টাকা। এ ছাড়া খুচরা ব্যবসায়ীরা ফার্মের সাদা রঙের ডিমের ডজন বিক্রি করছেন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়।

আলুর দরও দেখা গেছে অস্বাভাবিক। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে। তবে কারওয়ান বাজারের মতো পাইকারি বাজারে ৫০ বা ৫২ টাকা দরে কেনা যাবে।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী মো. সজিব কারওয়ান বাজার থেকে পাইকারি দরে আলু কিনে এনে বিক্রি করেন। তিনি জানান, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ করলে আলুর কেজি ৬০ টাকার কমে বিক্রি করলে লাভ থাকে না। দুই সপ্তাহ ধরে এ দরেই আলু বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি।

বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ দেখা যায়নি। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দরে। আদা-রসুনের বাজার কয়েকদিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। দেশি রসুন ২০০ থেকে ২২০ এবং চায়না রসুনের কেজি ২২০ থেকে ২৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে আদার কেজি কেনা যাচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে।

কাঁচামরিচের দরও কমেনি। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকার আশপাশে। বেগুনের দর এখনও চড়া। কেজিতে গুনতে হবে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। প্রায় একই দর পেঁপের। এ ছাড়া বরবটি ও কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে। পটোল, ঢ্যাঁড়শসহ অন্যান্য সবজি কেনা যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে।
মসলার মধ্যে জিরার দাম মাঝে কিছুটা কমলেও আবারও বাড়ছে। কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে। কারওয়ান বাজারের আব্দুর রব স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. নাঈম বলেন, ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে পাইকাররা অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন সব ধরনের মসলার।

এদিকে দাম নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে তদারকি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গতকাল সংস্থাটি ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে খুচরা, পাইকারি, আড়ত ও রিফাইনারি পর্যায়ে বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ঢাকা মহানগরীতে অধিদপ্তরের চারটিসহ সারাদেশে ৫৮টি দল বাজার তদারকির মাধ্যমে ১৩০টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন অপরাধের দায়ে ২১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে