ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাকসুর রোডম্যাপ ও তফসিল ঘোষণার দাবি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৫; সময়: ৮:১২ pm | 
খবর > শিক্ষাঙ্গন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের রােডম্যাপের দাবি জানানো হয়েছে। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সদস্য সচিব মাে.আমান উল্লাহ্ খান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ শিক্ষার্থী।

এসময় লিখিত বক্তব্যে আমান উল্লাহ্ খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানোত্তর বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক লড়াই এবং আগ্রহ নতুন করে বেড়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্রের সব জায়গায় গনতান্ত্রিক চর্চাকে কার্যকর করতে হবে।

জুলাই আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের চাওয়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ নির্বাচন কার্যকর করা। রাকসু আন্দোলন মঞ্চ দীর্ঘদিন রাবিতে রাকসুর দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। সেই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য চাওয়ার সাথে রাবির বর্তমান প্রশাসনিক দায়িত্বরত ভিসি মহোদয়, প্রো-ভিসি ফরিদ খান স্যার, রেজিস্ট্রার ড. ইফতিখারুল ইসলাম মাসুদ স্যার, ছাত্র উপদেষ্টা ড. আমিরুল ইসলাম কনক স্যার নৈতিকভাবে বিভিন্ন আন্দোলনে সাহস যুগিয়েছেন। ফলে শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য দাবি আদায়ে এবং সচল রাকসু কার্যকরে বর্তমান প্রশাসনের প্রতি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা অনেক বেশি।

রাবি ভিসি ড. সালেহ হাসান নকীব স্যার ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে পদায়িত হোন এবং উনি বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পাওয়ার পর ৫-৬ মাসের মধ্যে রাকসু নির্বাচনে দেওয়ার বিষয়ে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উনার ঘোষিত সময় অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাকসুর তফসিল ঘোষনার জন্য আমরা রাকসু আন্দোলন মঞ্চ থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি।

ছাত্রলীগ বিভিন্ন হল দখল করে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের যে নজির তৈরি করেছিল এবং শিক্ষার্থীরা যে জুলুমের শিকার হয়েছিল সে সংস্কৃতিতে ফেরত যেতে চাই না। ফলে ভবিষ্যৎ কোনা অশুভ শক্তি যারা শিক্ষার্থীদের নিপিড়ন করার অধিকার চায় তাদের ঠেকিয়ে দিতে হলে শুভ শক্তি সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধিদের সামনে হাজির করতে হবে। যারা নিয়মতান্ত্রিক ভাবে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া পূরনে প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করতে পারবে এবং শিক্ষার্থীদের উপর কোনো অশুভ শক্তি জুলুম নিপীড়ন করতে চাইলে দায়বদ্ধ নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিরা ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে।

তিনি রাকসু কার্যকর থাকার সুবিধা সম্পর্কে বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করা; শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও সুবিধা নিশ্চিত করা; শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতাবোধ তৈরি করা; সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনা; আন্দোলন ও অধিকা রক্ষা ইত্যাদি।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯০ সালের পর থেকে রাকসু কার্যকর না থাকায় দেশে রাজনৈতিক নেতৃত্বে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা দুর করতে ছাত্র সংসদ কার্যকরের বিকল্প নেই। জুলাই অভ্যুত্থানের পর তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে ছাত্র সংসদ জোরালো ভুমিকা পালন করবে। রাকসু আন্দোলন মঞ্চ আজকের সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের নিকট ফেব্রুয়ারি মধ্যে রাকসু নির্বাচনের তফসিল ও নির্বাচনী রোড ম্যাপ ঘোষণার জোর দাবি জানাচ্ছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন