ডাকসু নেত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানি নারীর ছবিতে রাকসু জিএসের মন্তব্য ঘিড়ে তোলপাড়

পাকিস্তানি নারীর সঙ্গে ডাকসু নেত্রীর ছবিতে আম্মারের কমেন্ট ‘নিয়ে আসেন আমার জন্য’

প্রকাশিত: মে ২২, ২০২৬; সময়: ১২:০৯ pm | 
খবর > বিশেষ সংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি: ফেসবুকে পাকিস্তানি এক নারীর সঙ্গে ছবি পোস্ট করেছেন ডাকসু কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা। সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘নিয়ে আসেন আমার জন্য’ কমেন্ট করার অভিযোগ উঠেছে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে। একজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি হয়ে এমন কমেন্ট করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। ছাত্রদল তাকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে মানসিক চিকিৎসার দাবি জানিয়েছে ও তিনি জিএস পদের উপযুক্ত নয় বলে মন্তব্য করেছে।

বৃহস্পতিবার (২১মে) বিকেলে সমালোচনার মুখে রাকসু জিএস আম্মার তার কমেন্টটি ডিলেট করে দেন। তবে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে রাকসু জিএসের কমেন্টের বেশকিছু স্কিনশট ছড়িয়ে পড়েছে।

স্কিনশটে দেখা যাচ্ছে, ডাকসু নেত্রী উম্মে সালমা এক নারীর সঙ্গে ছবি তুলে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে পোস্ট করেছেন। ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘Bangladesh+Pakistan, ঢাকা ইউনিভার্সিটি+পিকিং ইউনিভার্সিটি’। সেই পোস্টের কমেন্টে সালাউদ্দিন আম্মার লিখেছেন ‘নিয়ে আসেন আমার জন্য’। সেই কমেন্টে ৯১১টি রিয়াক্ট পড়েছে।

এ ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে নেটিজনরা ব্যাপক সমালোচনা শুরু করেছেন। তারা বলছেন, একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধির ভাষা কখনোই নারীর প্রতি অসম্মান, হেয়প্রতিপন্ন করার মতো হতে পারে না। এমন মন্তব্য নিঃসন্দেহে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ফেসবুকে আম্মারের সমালোচনা করে শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাফিউল জীবন লিখেছেন,“ ‘সাউআ’ জিএসের কাছে নারীরা কি শুধুই ভোগের বস্তু? যে ‘সাউয়া-মাউয়া’ ছিড়ে ফেলার মতো অশ্লীল শ্লোগান দিতে পারে, তার কাছ থেকে এমন মানসিকতা অস্বাভাবিক নয়। রামিসা ধর্ষণ-হত্যা নিয়ে যখন পুরো দেশ এখনও আলোচনা-সমালোচনায় ব্যস্ত, তখন একটি দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে ধর্ষণকে উসকে দেয়—এমন মন্তব্য নিঃসন্দেহে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধির ভাষা কখনোই নারীর প্রতি অসম্মান, হেয়প্রতিপন্ন করার মতো হতে পারে না।’

রাবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের সাবেক ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন আবীর বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে আমাদের বোনেরা যেভাবে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে, বার বার তাদের দিকেই আঙুল গেছে। তাদের সাহস এত বেড়েছে যে, তারা এখন নিজেদের আইডি দিয়েই বিভিন্নভাবে সাইবার বুলিং চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের নিজেদের মধ্যে ডাকসু-রাকসুর যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন, এখন দেখা যাচ্ছে তাদের নেত্রীরাই তাদের কাছে নিরাপদ না। আসলে তাদের শিরায় শিরায় সাইবার বুলিং আর নারীদের অসম্মান।’

আম্মারকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে জিএস পদের উপযুক্ত নন দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এই উন্মাদের কারণে পুরো বাংলাদেশে আজ কলঙ্কিত। তিনি এই জিএস পদের উপযুক্ত না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দ্রুত তার মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করুক। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে আম্মারের বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন গড়ে তুলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

আম্মারকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে জিএস পদের উপযুক্ত নয় বলে দাবি করে তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এই উন্মাদের কারণে পুরো বাংলাদেশে আজ কলঙ্কিত। তার জন্য আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে অনেকের কাছে লজ্জা পাই। তিনি এই জিএস পদের উপযুক্ত না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ দ্রুত তার মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করুক।

ডাকসু নেত্রীর পোস্টে করা আম্মারের কমেন্টের একটি স্কিনসট শেয়ার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়টির বনিকবার্তা প্রতিনিধি মো. মোহাইমিনুল ইসলাম লিখেছেন, ‘এঁরাই আবার নারীর নিরাপত্তা চেয়ে ঝটিকা মিছিল করে। ন্যূনতম লজ্জা শরম নাই, কোথায় কি কমেন্ট করতে হয় সেটাও জানে না।’

রাবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়া শুভ আম্মারের কমেন্টের স্কিনশটটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘ছাত্রী সংস্থার কাজগুলো কী কী কেউ বিস্তারিত জানলে জানাবেন প্লিজ। কমেন্ট গুলো শিবিরের নেতাদের। কোটি টাকার টেস্টি ট্রীটের স্যান্ডউইচ আর বিরিয়ানির জোরে এসব টিকটকার, ছাপড়িরা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হয়েছে। আফসোস! আল্লাহ তুমি অন্তত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানটা এদের হাত থেকে রক্ষা কইরো।’

এ বিষয়ে জানতে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে। ওপাশ থেকে আরেকজন তার কলটি রিসিভ করে পরিচয় জানতে চান। সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে জানান ‘আম্মার ভাই খেয়ে গেছেন’। পুনরায় তার কাছে বিষয়টি আবার জানতে চাইলে কিছুক্ষণ চুপ থেকে সে আবার একই জবাব দেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৬টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় সালাউদ্দিন আম্মারকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন