লাভের বদলে লোকসানে রাজশাহীর পেঁয়াজচাষিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুই সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ দ্বিগুণ হলেও রাজশাহীর অনেক পেঁয়াজচাষি এবার লোকসানের মুখে পড়েছেন। আগামজাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করে ভালো দামের আশায় যারা মাঠে নেমেছিলেন, তারা এখন দুশ্চিন্তায় ভুগছেন-আগামীতে এই চাষ আর করবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।
চাষিরা জানান, মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজের দাম ছিল খুবই কম। ফলে খরচ মেটাতে অনেকেই বাধ্য হয়ে কমদামে পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। এর মধ্যে বাগমারার তাহেরপুরের কৃষক মজিবুর রহমান জানান, পৌনে তিন বিঘা জমিতে তিনি প্রায় ১৭০ মন পেঁয়াজ উৎপাদন করেন। এতে তার খরচ হয়েছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করে প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। পরে কিছুটা দাম বাড়লেও তিনি এখনও নিশ্চিত নন, সব পেঁয়াজ বিক্রি করে অন্তত খরচের টাকা তুলতে পারবেন কি না।
অন্যদিকে, পুঠিয়ার মাহেন্দ্রা গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি এক বিঘায় ৪০ মন পেঁয়াজ পেয়েছেন। খরচ হয়েছিল ৩৮ হাজার টাকা। কিন্তু বিক্রি করেছেন মাত্র ৮০০ টাকা মন দরে-ফলে ৬ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে।
রাজশাহীর আরও কয়েকটি এলাকার চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার বিঘাপ্রতি গড় উৎপাদন হয়েছে ৫০-৬০ মন। এক বিঘায় চাষে খরচ হয়েছে ৫০-৬০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলেও অধিকাংশ চাষি দেনায় পড়ে আগেভাগেই পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। পাইকারি বাজারে দাম ছিল কম, অথচ ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। ফলে চাষিরা প্রকৃত ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক উম্মে সালমা জানান, অনেক কৃষকের ঘরে এখনো পেঁয়াজ রয়েছে। কৃষকদের ভালো দাম পেতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে যেন তারা বাড়িতেই এয়ার ফ্লো পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারেন। তিনি আরও জানান, এবার আমদানি না হওয়ায় দাম বাড়ছে এবং কৃষকরা এখন কিছুটা লাভের মুখ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। সূত্র-যুগান্তর




