ডলারের দর কমছে কেন?

প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৫; সময়: ১২:৫৫ pm | 
খবর > অর্থনীতি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডলারের দর প্রায় ১ টাকা কমেছে। ২ জুলাই যেখানে ব্যাংকগুলোতে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছিল ১২২.৮৫ টাকায়, ১০ জুলাই তা নেমে এসেছে ১২১.৮৫ টাকায়। এ নিয়ে ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা বেশ কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর ঋণের অর্থ ছাড়ের কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। আইএমএফ, এডিবি, জাইকা ও এআইআইবি থেকে জুন মাসে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার এসেছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সও রেকর্ড ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

এনআরবি ব্যাংকের এমডি তারেক রিয়াজ খান বলেন, “ডলারের যোগান ভালো থাকায় ব্যাংকগুলো এখন আর হাহাকার করছে না। এতে আমদানি খরচ কমছে, মূল্যস্ফীতি কমাতেও সহায়ক।”

তবে বাজারে চাহিদা কমে যাওয়াও একটি বড় কারণ। ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা এবং বিনিয়োগে ভাটা পড়ায় মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি অনেক কমেছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৮%–এর নিচে নেমে এসেছে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “দুই ঈদে ভালো রেমিটেন্সের সঙ্গে মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমে যাওয়ায় ডলারের দাম কমেছে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বেক্সিমকো ও এস আলম গ্রুপের অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের নতুন যন্ত্রপাতি আমদানি বন্ধ আছে। একইভাবে ব্যবসায়ীরা ঋণের উচ্চ সুদে ঝুঁকি না নিয়ে বিনিয়োগ স্থগিত করছেন।

তবে ডলারের দর বেশি কমে গেলে রপ্তানিকারক ও প্রবাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, “রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয় বাড়ায় এবং ঋণ আসায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। তবে ডলারের দর বেশি কমা রপ্তানির জন্য ভালো নয়।”

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন