পদ্মাটাইমসের প্রত্যাবর্তন : গণমাধ্যমের টিকে থাকার লড়াই
পদ্মাটাইমসের প্রত্যাবর্তনকে আমরা কেবল একটি নিউজ পোর্টালের পুনরায় সচল হওয়া হিসেবে দেখব না। আমরা এটিকে দেখব সাংবাদিকতার টিকে থাকার প্রতীক হিসেবে।

সাজ্জাদুর রহমান: রাজশাহী তথা উত্তরাঞ্চলবাসীর পরিচিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল পদ্মাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকম আবার চালু হয়েছে। পাঠক হিসেবে আমরা খুশি, তবে এর পেছনের বাস্তবতাকে না বললেই নয়- একটি সংবাদ প্রকাশের কারণে চাপ সৃষ্টি হয়ে যে মাধ্যমকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়, তা আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের গণমাধ্যম পরিবেশ সম্পর্কে কঠিন প্রশ্ন তোলে।
গণমাধ্যম শুধু সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়, এটি জনগণের জানার অধিকার রক্ষার অস্ত্র। কিন্তু যখনই কোনো সংবাদ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে, তখন মালিকপক্ষকে চাপের মুখে কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়- এটাই প্রমাণ করে আমরা এখনো স্বাধীন সাংবাদিকতার নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে পারিনি।
পদ্মাটাইমসের সম্পাদক বদরুল হাসান জানিয়েছেন- পাঠক, শুভানুধ্যায়ী এবং প্রশাসনের সহযোগিতার আশ্বাসের ভিত্তিতেই তারা আবার কার্যক্রম চালু করেছেন। এটি ইতিবাচক, তবে প্রশ্ন হলো- গণমাধ্যম কি শুধুই “সহযোগিতার আশ্বাস” নির্ভর থেকে যাবে? একটি সংবাদমাধ্যমের টিকে থাকার অধিকার তো আইন ও সংবিধান থেকেই আসা উচিত।
২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে পদ্মাটাইমস। ২০২২ সালে সরকারি নিবন্ধন পায়। আর গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনে এর কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনাই প্রমাণ করে- গণমাধ্যম সবসময়ই রাজনৈতিক ঝড়ের প্রথম আঘাত সয়ে নেয়। তারপরও তারা আবার দাঁড়ায়। এটাই গণমাধ্যমের আসল শক্তি।
আমাদের মনে রাখতে হবে, পদ্মাটাইমসের মতো আঞ্চলিক গণমাধ্যমগুলোই আসলে দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ভিত মজবুত করে। কেন্দ্রের সংবাদপত্রগুলো বড় ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, স্থানীয় পোর্টালগুলো জনগণের নিত্যদিনের সমস্যা, বঞ্চনা আর স্বপ্নকে তুলে ধরে। তাই এদের বাঁচিয়ে রাখা মানেই জনগণের কণ্ঠকে বাঁচিয়ে রাখা।
পদ্মাটাইমসের প্রত্যাবর্তনকে আমরা কেবল একটি নিউজ পোর্টালের পুনরায় সচল হওয়া হিসেবে দেখব না। আমরা এটিকে দেখব সাংবাদিকতার টিকে থাকার প্রতীক হিসেবে। এবং এটিই হবে আমাদের প্রত্যাশা- কোনো সংবাদমাধ্যম যেন আর কখনো চাপের মুখে নিস্তব্ধ না হয়।




