নাটোরের চার আসনে ১১ হাজার ১২৪ জন পোস্টাল ভোটার
প্রবাসী ও কারাবন্দীদের মধ্যেও ভোট দেওয়ার আগ্রহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নাটোর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন মোট ১১ হাজার ১২৪ জন ভোটার। এদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ও কারাগারে বন্দি রয়েছেন ৮ হাজার ২৪৬ জন এবং বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ভোটার রয়েছেন ২ হাজার ৮৭৮ জন। শুধু কারাগারে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন ৪১ জন বন্দী।
আসনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, নাটোর-১ (লালপুর ও বাগাতিপাড়া) আসনে পোস্টাল ভোটার ২ হাজার ৭৯৫ জন, নাটোর-২ (নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা) আসনে ৩ হাজার ৩৪৩ জন, নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে ২ হাজার ১০৪ জন এবং নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম) আসনে ২ হাজার ৮৮২ জন ভোটার রয়েছেন।
নাটোর-২ আসনের ভোটার ও কানাডা প্রবাসী সৈয়দ মিল্টন রেজা বলেন, “প্রথমবারের মতো প্রবাসীরা জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে গণভোটেও মতামত জানাতে পারবো। দেশের গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারে অংশগ্রহণের এই সুযোগ গর্বের। এজন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই।”
নাটোর-৪ আসনের সৌদি আরব প্রবাসী মাহাবুবুল আলম রেজা বলেন, “দীর্ঘ ১২ বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। এবার ভোট দিতে পারবো—এই ভাবনাতেই মনে স্বস্তি ও আনন্দ অনুভব করছি।”
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, নিবন্ধিত পোস্টাল ভোটারদের ঠিকানায় ডাকযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রতীকসংবলিত ব্যালট পেপার এবং গণভোটের জন্য গোলাপি রঙের পৃথক ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে ভোট প্রদান শেষে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার ঠিকানায় সিল করা খামে ব্যালট পাঠাতে হবে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার দিন ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসব পোস্টাল ব্যালট গণনা করা হবে।
কারাগারে ৪১ বন্দীর পোস্টাল ভোট
এদিকে নাটোর জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কারাগারে ৩৩ জন নারীসহ মোট ৭৫২ জন বন্দী রয়েছেন। এর মধ্যে ৪১ জন বন্দী পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন হাজতি ও ২৪ জন কয়েদি রয়েছেন। নারী বন্দীদের মধ্যে ২ জন হাজতি এবং ১ জন কয়েদি ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন।
নাটোর জেলা কারাগারের জেলার শেখ রাসেল বলেন, “নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার পর থেকে বন্দীদের ভোট প্রদানে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। ৭৫২ জন বন্দীর মধ্যে ৪১ জন ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।”




