প্রয়োজনে ‘নিজেদের পথ’ ধরার হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করে ১১ দলীয় ঐক্যের কয়েকজন প্রার্থীকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবং এর বিরুদ্ধে সুষ্ঠু প্রতিকার চেয়েছেন।
শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, বিজয়ী দলের কর্মী-সমর্থকরা তাদের জোটের কর্মী ও সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করছে। তিনি এমন তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, যদি নির্বাচন নিয়ে ‘কারচুপির’ প্রতিকার না পাওয়া যায়, তবে তারা নিজেদের পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “আমাদেরকে যদি বাধ্য করা হয়, তাহলে রাজপথেও নামব।”
শুক্রবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকও উপস্থিত ছিলেন, তবে তারা কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেছে, তাদের প্রার্থীরা ২০৯ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ৬৮ আসনে জয় লাভ করেছেন। ১১ দলের জোটের সদস্যরা ৯টি আসনে জয় পেয়েছেন।
শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচনে ফল ঘোষণার পর বেশ কিছু অঞ্চলে ফলাফল প্রকাশ হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়, এবং একাধিক স্থানে ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে ডকুমেন্ট রয়েছে, যেখানে রেজাল্টশিটে কারচুপি করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন এলাকায় আমাদের প্রার্থী, এজেন্ট, কর্মী ও ভোটারদের বাড়িতে হামলা হচ্ছে, আগুন দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের আচরণ ফ্যাসিবাদী তৎপরতার চিহ্ন।” শফিকুর রহমান এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং এই অপকর্মগুলো অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে আহ্বান জানান।
এছাড়া, জামায়াতের আমির কিছু আসনে ‘দ্বৈতনীতি’ প্রয়োগের অভিযোগ তুলে বলেন, “ঢাকা-৮ আসনে কেন্দ্র দখল করে যে ঘটনা ঘটেছে তা সবার সামনে এসেছে। একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা-১৩ আসনেও, কিন্তু সেখানে সেটা গ্রহণ করা হয়নি। এক দেশে দুই আইন কীভাবে চলতে পারে?”
তিনি নির্বাচনে অনিয়ম, দুর্নীতি, জোরজবরদস্তি এবং কালো টাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং নির্বাচনের ফল স্থগিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, “যারা ঋণ খেলাপি, তাদের নির্বাচনেও যোগ্যতা ঘোষণা করা হয়েছে, এটি অন্যায়।”
এদিকে, নাহিদ ইসলাম বলেন, “এ নির্বাচনে সুস্পষ্টভাবে কারচুপি হয়েছে। ভোটের এক পর্যায়ে সুষ্ঠু হলেও, ফল ঘোষণার সময় অনেক আসনের ফল পরিবর্তন করা হয়েছে। কেন্দ্র দখল করে প্রশাসনকে ব্যবহার করে ফলাফল পাল্টানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা নির্বাচনের পরদিনই তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাড়িতে হামলা ও হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়া করেছে, তাদের কাছে জনগণ কীভাবে নিরাপদ থাকবে?”
পরবর্তীতে মামুনুল হক বলেন, “ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর আমাদের কাছে পরিষ্কার হয় যে, ভোট গ্রহণের তুলনায় গণনা সম্পূর্ণ বিপরীতভাবে হয়েছে। এতে জনরায়ের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শিত হয়েছে।”
এদিকে, ১১ দলীয় জোট রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে নাহিদ ইসলাম জানিয়ে দিয়েছেন।




