মান্দায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬; সময়: ১১:৫৭ pm | 
খবর > আঞ্চলিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, মান্দা : নওগাঁর মান্দা উপজেলার হাটোইর গ্রামে তৈয়বুর রহমান হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের পর একদল মুসল্লি সংঘবদ্ধ হয়ে এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলায় হত্যা মামলার আসামি সৈয়ব আলী, সাজেদুর রহমান, কামরান হোসেন, স্বাধীন, সুমন, সুজাত, সজিব ও হামিদুল ইসলাম আকুর বসতবাড়ি পুড়ে যায়। এছাড়া ইমরান হোসেন ও আমিনুর রহমানের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, জুমার নামাজ শেষে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল প্রথমে প্রধান আসামি সৈয়ব আলীর বাড়িতে হামলা চালায়। পরে সৈয়ব আলী ও তার ছেলেদের কয়েকটি বাড়িতে একযোগে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মান্দা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ক্ষতিগ্রস্ত লাইলি বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী আমিনুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামি হলেও ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। মামলার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। এরপরও তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রাণভয়ে তিনি পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

এ বিষয়ে হত্যা মামলার বাদী সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের হাটোইর গ্রামে শিশুদের আম পাড়াকে কেন্দ্র করে আব্দুল মোমিন ও প্রতিবেশী ইমরান হোসেনের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত ৮ জুন সকালে ইমরান হোসেন ও তার সহযোগীরা আব্দুল মোমিনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মারধর করেন। এতে চারজন আহত হন।

আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন আবারও হামলা চালায়। এ সময় তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে স্থানীয় বাসিন্দা তৈয়বুর রহমান মারধরের শিকার হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মান্দা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় এ পর্যন্ত সৈয়ব আলী, কামরান, স্বাধীন ও সুরভী বেগমকে গ্রেপ্তার করে নওগাঁ কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, “তৈয়বুর রহমান হত্যা মামলায় ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে জুমার নামাজের পর সংঘবদ্ধ হয়ে আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন