পাবনা পাসপোর্ট অফিসে সিন্ডিকেট বাণিজ্য, দুই কর্মকর্তার অপসারণ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা : পাবনা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে দুই কর্মকর্তার অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয়রা।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা সহকারী পরিচালক মো. আহসান উদ্দিন এবং ডাটা এন্ট্রি কন্ট্রোল অপারেটর মো. ইমামুল হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে তাদের দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান।
বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও বিভিন্ন অজুহাতে আবেদনকারীদের বারবার অফিসে আসতে বাধ্য করা হয়। আবেদনপত্রে ত্রুটি দেখিয়ে ঘুরানো, দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করানো, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সেবা প্রদানে গড়িমসির কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, পাসপোর্ট অফিসকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। সরকারি ফি ছাড়াও প্রতি আবেদনে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট কিছু দালাল ও কম্পিউটার দোকানের মাধ্যমে আবেদন জমা দিলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হলেও সাধারণ আবেদনকারীদের নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সিন্ডিকেটভুক্ত আবেদন শনাক্ত করতে আবেদনপত্রের প্রথম পাতায় বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু কম্পিউটার দোকানের ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে ফাইল চিহ্নিত করা হয়। এরপর হোয়াটসঅ্যাপ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কমিশনের অর্থ লেনদেন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা ডাটা এন্ট্রি কন্ট্রোল অপারেটর মো. ইমামুল হোসেনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তিনি নিজের নামে নিবন্ধিত নম্বর ব্যবহার না করে অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্রে নিবন্ধিত একটি মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নম্বরের বিকাশ লেনদেনের তথ্য ও কিছু নথিপত্র তাদের কাছে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে জমা দেওয়া আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি হলেও সাধারণ আবেদনকারীদের বারবার সংশোধনের কথা বলে ফেরত পাঠানো হয়। এতে অনেকেই বাধ্য হয়ে দালালচক্রের শরণাপন্ন হন।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে পাসপোর্ট অফিসের এক আউটসোর্সিং কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, ওই ঘটনার মূল হোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন এবং সিন্ডিকেটের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মো. ইমামুল হোসেন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে তা উপস্থাপন করা হোক।”
সহকারী পরিচালক মো. আহসান উদ্দিন বলেন, “কোনো অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি অফিসে কোনো সিন্ডিকেট কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন।
মানববন্ধনকারীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য হয়রানিমুক্ত পাসপোর্ট সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সচেতন মহলের মতে, পাসপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতে দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ জনআস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।




