একদিনে পাবনার মর্গে ৬ লাশ, বাড়ছে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা: পাবনায় কয়েকদিন ধরে ঘটে যাওয়া হত্যা, অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য সহিংস ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে জনমনে। মঙ্গলবার (৯ জুন) একদিনেই ছয়টি মরদেহের ময়নাতদন্ত হওয়ায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে পাঁচজন বিভিন্ন সহিংস ঘটনার শিকার এবং একজন আত্মহত্যা করেছেন।
সর্বশেষ, সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুরে স্কুলছাত্রী রিয়া খাতুন (১৫) ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের জেরে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুজন মঙ্গলবার ভোরে এবং একজন সোমবার রাতে মারা যান।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ এবং নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির। এর আগে সোমবার রাতে মারা যান একই এলাকার ইউসুফের ছেলে সাপু।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন পদ্মা নদী থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রী রিয়া খাতুনের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার দাফন শেষে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আশপাশে থাকা কয়েকজন দগ্ধ হন।
স্থানীয়দের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের সময় অভিযুক্ত পরিবারের কোনো সদস্য বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই ছিলেন প্রতিবেশী, পথচারী ও ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া উৎসুক জনতা।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, দগ্ধ তিনজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে রিয়া হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া তার কথিত প্রেমিক নাইমসহ তিনজন জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, সোমবার পাবনা শহরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক ঘটনায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে দুইজন নিহত হন। শহরের জামিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসার সামনে ছেলের সামনেই গুলিতে নিহত হন হোসেন আলী (৫৫)। একইদিনে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম (২২)।
এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত পৃথক ঘটনায় আরও একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার ছয়টি মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ধারাবাহিক হত্যা, সহিংসতা ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন জেলার বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




