আদালতের রায় মেনে নিয়েছে সোহেলের পরিবার

প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬; সময়: ৮:২৮ pm | 
খবর > আঞ্চলিক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, নাটোর : দেশজুড়ে আলোচিত পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তার (৮) ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের রায় মেনে নিয়েছে সোহেলের পরিবার।

রোববার (৭ জুন) ঢাকার আদালতে রায় ঘোষণার পর নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুর গ্রামে সোহেলের পরিবারের সদস্যরা এ তথ্য জানান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, রায় ঘোষণার আগে সকালে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফোনে বাবা জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন সোহেল রানা। এ সময় তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করে বাবার কাছে ক্ষমা চান। পাশাপাশি দাদার বাড়িতে থাকা তার প্রথম স্ত্রীর ১০ বছর বয়সী ছেলের সঙ্গেও দীর্ঘ সময় পর কথা বলেন।

দুপুরে গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যস্ত ছিলেন। তারা জানান, রায়ের বিষয়ে তারা আগে থেকে কিছু জানতেন না। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সোহেলের বোন জলি বেগম বলেন, “আমরা আগে থেকেই ধারণা করেছিলাম তার ফাঁসি হতে পারে। আদালত যে রায় দিয়েছেন, আমরা তা মেনে নিয়েছি। আর্থিক সামর্থ্য থাকলে আপিল করার চেষ্টা করতাম।”

সোহেলের বাবা জাকির হোসেন বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। আপিল করার মতো টাকা-পয়সা নেই। সরকার যদি সহযোগিতা করে, তাহলে আপিলের বিষয়টি বিবেচনা করব।”

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোহেলের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা অভিযোগ ছিল। পরকীয়া, চুরি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সিংড়ায় থাকাকালে একটি নির্মাণাধীন সেতুর রড চুরির মামলাও ছিল তার নামে। পরবর্তীতে ঋণগ্রস্ত হয়ে প্রায় চার বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রী স্বপ্নাকে নিয়ে তিনি ঢাকায় চলে যান।

রায়ের পর মহেশচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেন। তারা বলেন, আলোচিত এ মামলার দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

উল্লেখ্য, পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি সোহেল রানা (৩৩) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৮) মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রোববার সকাল ১১টায় বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় ঘোষণা শুরু করেন এবং বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে রায় পাঠ শেষ করেন।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন