রাজনীতির ময়দানে চমক দেখালেন পর্দার নায়ক থালাপতি

প্রকাশিত: মে ৪, ২০২৬; সময়: ১১:০৯ pm | 
খবর > আন্তর্জাতিক

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে তামিল চলচ্চিত্রে বীরোচিত চরিত্রে দর্শকদের মন জয় করা থালাপতি বিজয় এবার বাস্তবের রাজনীতিতেও আলোড়ন তুলেছেন। পর্দার নায়ক থেকে সরাসরি রাজনৈতিক অঙ্গনে এসে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি যে প্রভাব বিস্তার করেছেন, তা তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন এক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

থালাপতি বিজয়ের আসল নাম জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। ২০২৪ সালে তিনি ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)’ নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন। দল ঘোষণার পর থেকেই তিনি রাজ্যের মানুষের অধিকার, সুশাসন ও কেন্দ্রীয় নীতির সমালোচনায় সরব হন। বিশেষ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে দেওয়া তাঁর বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

রাজনীতির ময়দানে নবাগত হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে ইতিমধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে তাঁর দল। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় টিভিকে ৯৬টি আসনে জয় পেয়েছে এবং আরও ১১টিতে এগিয়ে রয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন না করলেও সর্বাধিক আসন পাওয়ার পথে রয়েছে বিজয়ের দল, যা তাকে সরকার গঠনের সম্ভাবনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অন্য দলগুলোর সমর্থন পেলে বিজয়ের সামনে সরকার গঠনের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। তা হলে প্রায় অর্ধশতাব্দী পর আবারও তামিলনাড়ুতে কোনো চলচ্চিত্র তারকা মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসতে পারেন। এর আগে ১৯৭৭ সালে এম জে রামচন্দ্রন চলচ্চিত্র জগত থেকে উঠে এসে মুখ্যমন্ত্রী হন এবং এক দশক রাজ্য শাসন করেন।

পরবর্তীতে জয়ললিতা-র মতো জনপ্রিয় নেত্রীও সরাসরি নতুন দল গড়ে নয়, বরং প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসেন। ফলে নতুন দল গড়ে এমন সাফল্যের পথে বিজয়ের এই অগ্রযাত্রা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনীতিতে বিজয়ের উত্থান হঠাৎ নয়, বরং দীর্ঘ প্রস্তুতির ফল। ২০০৯ সাল থেকেই তিনি নিজের ভক্তদের ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে একত্রিত করেন। শুরুতে সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করে। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা সহায়তা ও স্থানীয় সমস্যা সমাধানে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তারা একটি সামাজিক ভিত্তি গড়ে তোলে।

২০১১ সালে এই সংগঠন একটি রাজনৈতিক জোটকে সমর্থন দিয়ে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা দেখায়। এরপর ধীরে ধীরে বিজয়ের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট হতে থাকে। বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থান, দুর্নীতি ও সুশাসনের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান নতুন ভোটারদের আকৃষ্ট করে।

২০২৪ সালে দল ঘোষণার পর তিনি অভিনয় জীবন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় তিন দশকের ক্যারিয়ারে ৭০টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করা এই তারকার এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে তার প্রতিশ্রুতির স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হয়।

পরবর্তী দুই বছরে টিভিকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা, নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে দলটি দ্রুত শক্তিশালী অবস্থান নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতি এবং সরাসরি জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বিজয়ের জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়।

তবে এই পথচলায় চ্যালেঞ্জও ছিল। ২০২৫ সালে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা দলটির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু সে সময় বিজয়ের সংযত ও দায়িত্বশীল প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

সব মিলিয়ে, অভিনয়জগতের তারকা থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্বে উঠে আসা থালাপতি বিজয়ের এই উত্থান তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, তিনি এই জনসমর্থনকে কতটা কার্যকর রাজনৈতিক নেতৃত্বে রূপ দিতে পারেন।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন