আবাসন খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রিহ্যাবের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রিহ্যাবের বৈঠকে নিবন্ধন ফি কমানো, পরিকল্পিত নগরায়ণ ও ডিজিটাল সেবার দাবি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : দেশের আবাসন শিল্পকে আরও গতিশীল, বিনিয়োগবান্ধব ও পরিকল্পিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) একটি প্রতিনিধিদল। বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আবাসন খাতের বিদ্যমান সংকট, পরিকল্পিত নগরায়ণ, ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে রিহ্যাব নেতারা বলেন, আবাসন শিল্প দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হলেও উচ্চ নিবন্ধন ব্যয়, নীতিগত জটিলতা এবং বিভিন্ন সেবায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে খাতটি প্রত্যাশিত গতিতে এগোতে পারছে না। এ প্রেক্ষাপটে জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি আবাসন-সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবাগুলো দ্রুত সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিয়ে আসার ওপর জোর দেওয়া হয়।
প্রতিনিধিদল রাজধানীর সীমিত জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি এবং উল্লম্ব নগরায়ণের সুযোগ সম্প্রসারণের প্রস্তাবও তুলে ধরে। তাদের মতে, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বহুতলভিত্তিক উন্নয়ন নগরায়ণের চাপ কমাতে এবং ভূমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ খাতের বিকাশ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নগর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
তিনি বলেন, আবাসন খাতকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে সরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। একই সঙ্গে পরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও নগরায়ণ শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক হওয়া উচিত নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমন্বিত ও পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় কৃষিজমি সংরক্ষণের বিষয়টিও সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের সঙ্গে আবাসন খাতের অংশীজনদের এ ধরনের নীতিনির্ধারণী আলোচনা ভবিষ্যতে খাতটির কাঠামোগত সংস্কার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জন্য আবাসন সহজলভ্য করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।




