জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করে দীর্ঘদিন রাজনীতি করা যাবে না

জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর; বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের ওপর জোর

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬; সময়: ৯:৩১ pm | 
খবর > জাতীয়

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, যারা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলছেন, তাদের উচিত জনগণের সামনে সেই রূপরেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।

রোববার (১৯ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত **‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’** শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে, তবে জাতীয় স্বার্থে সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিভেদমূলক রাজনীতি স্বৈরাচারের প্রত্যাবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত না করে বিচারকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা সমীচীন হবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনসভা ও প্রশাসনের ভূমিকা থাকলেও প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিচার বিভাগের ওপরই বর্তায়।

সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, অতীতে নিম্ন ও উচ্চ আদালতের কিছু বিচারক রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, ‘রাতের ভোট’ হিসেবে সমালোচিত নির্বাচন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত নির্যাতনের ঘটনায় কেউ কেউ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু নতুন আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন সাংবিধানিক সংস্কার। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা প্রায় ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশই বর্তমান সরকার আইনে পরিণত করেছে। যেগুলোতে আরও সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন করা হবে।

সংবিধান সংশোধন বিষয়ে বিরোধী দলকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি টেকসই সাংবিধানিক সংস্কার প্রয়োজন।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মৌলিক বিষয়ে সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান রয়েছে। তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোট সাংবিধানিক গণভোট ছিল না; এটি প্রশাসনিক আদেশের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন আইন আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রণয়ন করা হবে।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন