ওষুধ দেওয়ার কথা বলে রোগীর মাকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬; সময়: ৮:১৫ pm | 
খবর > আঞ্চলিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর: নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মাকে (১৮) ধর্ষণের অভিযোগে তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে (আউটসোর্সিং) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন নাটোর শহরের আলাইপুর সুইপার কলোনির বাসিন্দা অমিত (২৩), অনিল (২৪) ও প্রাঙ্গণ (২৩)।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নাটোর পৌর এলাকার এক নারী তার দুই বছর বয়সী অসুস্থ মেয়েকে চিকিৎসার জন্য গত ৫ জুন সন্ধ্যায় নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। গত রোববার রাত ১১টার দিকে অমিত শিশুটির মাকে ওষুধ দেওয়ার কথা বলে লিফটে নিয়ে যান। পরে ওই নারী ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় অনিল ও প্রাঙ্গণ ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন অনিল ও প্রাঙ্গণ। এদিকে মাকে খুঁজে না পেয়ে অসুস্থ শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স ও ওয়ার্ডবয়রা আনসার সদস্যদের নিয়ে তার সন্ধান শুরু করেন।

একপর্যায়ে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানান।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর আনসার সদস্যরা অভিযুক্ত তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে আটক করলেও পরে তারা ছাড়া পেয়ে যান। তবে কীভাবে তারা মুক্ত হন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী নারীও প্রথমদিকে মামলা করতে আগ্রহ দেখাননি বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি সোমবার রাতে জানাজানি হলে পুলিশ তৎপর হয়। পরে অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার ভুক্তভোগী নারীর বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় আটক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

হাসপাতালের আনসার সদস্য আল আমিন বলেন, নার্সদের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয় এবং অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছিল। তবে পরে তারা কীভাবে ছাড়া পেয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান বলেন, অসুস্থ শিশুটির কান্নাকাটি শুনে হাসপাতালের কর্মীরা দ্রুত ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করেন। পরবর্তী সময়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ অন্যান্য আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন