বয়স বাড়ে, ধার কমে না মেসির

পদ্মাটাইমস ডেস্ক | সময় কারও জন্য থেমে থাকে না। বয়সের সঙ্গে অনেক ফুটবলারের ধার কমে গেলেও ব্যতিক্রম Lionel Messi। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে তিনি আর আগের মতো ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন না। বরং নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন—নিখুঁত শুটার হিসেবে। আর সেই পরিবর্তনই তাকে এখন দূরপাল্লার শটের অন্যতম সেরা অস্ত্রে পরিণত করেছে।
বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার দুটি শট যেন সেই পরিবর্তনেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত। একসময় যে মেসি ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করতেন, এখন তিনি সুযোগ পেলেই গোলমুখে শট নিতে দ্বিধা করেন না।
বার্সেলোনার সেরা সময়ে মেসির খেলার প্রধান শক্তি ছিল গতি, ড্রিবলিং ও বল নিয়ন্ত্রণ। সে সময় প্রতি ম্যাচে গড়ে ৪.৫ থেকে ৫.৫টি সফল ড্রিবল করতেন তিনি। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করা ছিল তার স্বভাবসিদ্ধ ব্যাপার।
তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের খেলার ধরনও বদলেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সময়, বর্তমান অবস্থা ও বয়সের কারণে নিজের খেলার ধরনে পরিবর্তন আনতে হয়েছে।
বর্তমান পরিসংখ্যানও সেই পরিবর্তনের প্রমাণ দিচ্ছে। আগে যেখানে প্রতি ম্যাচে সফল ড্রিবলের সংখ্যা ছিল ৫-এর বেশি, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ২-এ। অন্যদিকে শট নেওয়ার হার বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বর্তমানে প্রতি ম্যাচে গড়ে ৫.৫ থেকে ৬টি শট নিচ্ছেন তিনি।
এই পরিবর্তনের সুফলও পাচ্ছেন মেসি। ২০২৬ মৌসুমে ১৪ ম্যাচে ৮৪টি শট থেকে করেছেন ১২ গোল, পাশাপাশি রয়েছে ৭টি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ বয়স বাড়লেও আক্রমণভাগে তার কার্যকারিতা কমেনি, বরং নতুন ভূমিকায় আরও পরিণত হয়েছেন তিনি।
নিজেকে বদলে নেওয়ার এই ক্ষমতা মেসির নতুন নয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে ফ্রি-কিক নেওয়াতেও খুব একটা দেখা যেত না তাকে। কিন্তু দীর্ঘ অনুশীলনের মাধ্যমে ফ্রি-কিককে নিজের অন্যতম বড় অস্ত্রে পরিণত করেছেন। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে তার ফ্রি-কিক থেকে গোলের সংখ্যা এখন ৭০-এরও বেশি।
বারবার নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার এই অসাধারণ সক্ষমতাই মেসিকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তাই ৩৮ বছর বয়সেও তিনি ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন মুহূর্তেই, আর মুগ্ধ করে রাখতে পারেন কোটি ফুটবলপ্রেমীকে।




