দেড়শ বছরের পুরোনো আইন বাতিল, সংসদে জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬; সময়: ৮:২৫ pm | 
খবর > জাতীয়

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ডিজিটাল যুগে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিতে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৫৯ বছর ধরে কার্যকর থাকা ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭’ বাতিল করে যুগোপযোগী নতুন আইন প্রণয়ন করা হলো।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

এর আগে গত ২৩ জুন বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। পরে এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হয়।

নতুন আইনে জুয়া, ডিজিটাল জুয়া, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, টোটালাইজেটর, বাজিকর, ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিংসহ ২৪টি বিষয়ের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আইনের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৮৬৭ সালের আইনটি ডিজিটাল যুগের বাস্তবতায় কার্যকর ছিল না। অনলাইন জুয়া, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, স্পোর্টস বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলায় বিদ্যমান আইনি কাঠামো অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছিল।

এতে আরও বলা হয়, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট এবং বিভিন্ন অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত জুয়া, অর্থপাচার ও প্রতারণা দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং তরুণ সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

নতুন আইনে জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর, বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবে কাজ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার পেজ বা চ্যানেল পরিচালনা, জুয়ার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা সরঞ্জাম সরবরাহ, জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার এবং স্পনসরশিপকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ আইনের আওতায় সংঘটিত অপরাধগুলোকে আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব মামলার বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনাল অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পরিচালিত হবে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন