প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: এমপি মিলন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন বলেছেন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে। সরকারের বরাদ্দ ও সুবিধাভোগীদের প্রাপ্তির মধ্যে কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হবে না এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাইসাইকেল, শিক্ষাবৃত্তি, সেলাই মেশিন ও বসতঘর বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পবা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ১৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বাইসাইকেল, ১২০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষাবৃত্তি, ১২ জনকে সেলাই মেশিন এবং চারটি পরিবারকে বসতঘর প্রদান করা হয়। এসব খাতে মোট ২৭ লাখ ১১ হাজার টাকার উন্নয়ন সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের প্রান্তিক, আদিবাসী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের ভোটের আমানত রক্ষা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেই জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন।
তিনি বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিকূল পরিবেশেও তারা দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাদের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে যাতায়াতের সুবিধার্থে বাইসাইকেল ও শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রান্তিক পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন এবং গৃহহীনদের জন্য বসতঘর প্রদান করা হচ্ছে।
এমপি মিলন আরও বলেন, পবা-মোহনপুরসহ দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আগামী দিনেও প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও বেশি বরাদ্দ এনে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে নতুন বাইসাইকেল পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে শিক্ষার্থী রত্না বিশ্বাস। পবা উপজেলার খ্রিস্টানপাড়া এলাকার বাসিন্দা রত্নার বাবা একজন রাজমিস্ত্রি। এতদিন প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে স্কুলে যেতে হতো তাকে।
রত্না জানায়, বাবার পক্ষে সাইকেল কিনে দেওয়া সম্ভব ছিল না। হেঁটে স্কুলে যেতে অনেক সময় লাগত। এখন সাইকেল পাওয়ায় মাত্র ১০ মিনিটে স্কুলে পৌঁছাতে পারবে এবং নিয়মিত সময়মতো বিদ্যালয়ে গিয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে। এসব সহায়তা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি তিনি উপকারভোগীদের সরকারি সহায়তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি রাজ কুমার শাও, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ।




