রাজশাহীর সেই মাদক কারবারিকে খুঁজছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহানের নির্দেশে শুক্রবার রাতে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পুলিশের দাবি, অভিযানের আগেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
পুলিশ সূত্র জানায়, গোদাগাড়ী পৌরসভার মাদারপুর মহল্লায় জাহাঙ্গীরের বাড়িতে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মীর্জা মো. আব্দুস ছালাম। বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হলেও তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে।
সম্প্রতি গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত একটি কমিউনিটি পুলিশিং সভায় জাহাঙ্গীর আলমকে তার অনুসারীদের নিয়ে উপস্থিত হতে দেখা যায়। সভায় একজন বক্তা মাদক ব্যবসায়ীদের উপস্থিতির বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরেন। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশাসনের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয় এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তৎপর হয় পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, জাহাঙ্গীর আলম গোদাগাড়ী থানার তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী থানায় তিনটি মাদক মামলা ও একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও যশোর কোতোয়ালি থানায় আরও দুটি মাদক মামলার আসামি তিনি। এসব মামলায় হেরোইন, ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আশ্রয়ে জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অর্থ দিয়ে বাড়ি, খামার, ট্রাক, ফ্ল্যাট, জমি ও অন্যান্য সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এলাকায় প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি প্রকাশ্যে সক্রিয় হন। স্থানীয়ভাবে তিনি বা তার বাবা নওশাদ আলী ভবিষ্যতে গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী বলে প্রচার রয়েছে। নওশাদ আলীও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী বলে পুলিশ জানিয়েছে। তিনি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং বর্তমানে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “জাহাঙ্গীর আলম থানার তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ডিআইজি স্যারের নির্দেশ রয়েছে। তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে, কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।” সূত্র- আজকের পত্রিকা




