কিছু মানুষকে মশা কেন বেশি কামড়ায়?

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬; সময়: ১:০০ pm | 
খবর > বৈচিত্র

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় আড্ডা কিংবা ভ্রমণে প্রায়ই দেখা যায়, একদল মানুষের মধ্যে মশা যেন নির্দিষ্ট একজনকেই বেশি কামড়ায়। অনেকেই মজা করে বলেন, তার রক্ত নাকি মশার বেশি পছন্দ। তবে এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

গবেষকদের মতে, মশা মানুষের শরীর থেকে নির্গত বিভিন্ন সংকেত শনাক্ত করে শিকার বেছে নেয়। বিশেষ করে কার্বন ডাই-অক্সাইড, শরীরের তাপমাত্রা, ঘাম, ত্বকের গন্ধ এবং জিনগত বৈশিষ্ট্য একজন মানুষকে অন্যদের তুলনায় মশার কাছে বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

কার্বন ডাই-অক্সাইডের ভূমিকা

সব মশা নয়, শুধু স্ত্রী মশাই ডিমের বিকাশের জন্য মানুষের রক্ত পান করে। প্রায় ১০ মিটার দূর থেকেই তারা মানুষের নিঃশ্বাসে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড শনাক্ত করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্করা শিশুদের তুলনায় বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করায় তারা সাধারণত বেশি মশার লক্ষ্যবস্তু হন।

শরীরের তাপ ও ঘাম

মশা শরীরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার প্রতিও আকৃষ্ট হয়। তাই গর্ভবতী নারী, ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের পর ঘেমে যাওয়া ব্যক্তি এবং তুলনামূলক বড় গড়নের মানুষের প্রতি মশার আকর্ষণ বেশি দেখা যায়।

ত্বকের গন্ধ ও জিনগত প্রভাব

শরীরের কাছাকাছি এলে মশা মূলত ত্বকের গন্ধের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। ত্বকে থাকা অণুজীব বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ তৈরি করে, যার মধ্যে কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকলে মশা বেশি আকৃষ্ট হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই বৈশিষ্ট্যের বড় একটি অংশ জিনগত বা বংশগত।

কেন কারও বেশি চুলকায়?

অনেকের ধারণা, মশা শুধু তাকেই বেশি কামড়ায়। কিন্তু বাস্তবে এর একটি কারণ শরীরের প্রতিক্রিয়াও। কারও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে মশার কামড়ে তীব্র চুলকানি, লালচে ফোলা বা বড় চাকা তৈরি হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে খুব সামান্য দাগ দেখা যায়। ফলে যাদের প্রতিক্রিয়া বেশি, তাদের কাছেই মনে হয় মশা যেন শুধু তাদেরই বেশি কামড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা কাকে বেশি কামড়াবে, তা নির্ভর করে শরীরের রাসায়নিক সংকেত, তাপমাত্রা, নিঃশ্বাসে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং জিনগত বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ের ওপর।

সূত্র: বিবিসি

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন