পুঠিয়ায় তিন ফসলি জমিতে অবৈধ পুকুর খনন, হুমকিতে ২০০ বিঘা কৃষিজমি

সাতটি ভেকু মেশিনে দিন-রাত খনন, অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না এলাকাবাসী

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬; সময়: ৬:০১ pm | 
খবর > রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার শীলমাড়িয়া ইউনিয়নের বদোপাড়া উত্তর মাঠে তিন ফসলি কৃষিজমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, গত প্রায় ১০ দিন ধরে সাতটি ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন দিয়ে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা খননকাজ চললেও প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান অভিযান হয়নি। একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাননি বলে দাবি তাদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৮০ বিঘা তিন ফসলি জমিতে জোরপূর্বক পুকুর খনন করা হচ্ছে। এতে আশপাশের প্রায় ২০০ বিঘা কৃষিজমির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, খননকৃত পুকুরের চারপাশে পানি চলাচলের জন্য কোনো খাল বা ক্যানেল রাখা হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুমে জমিতে পানি জমে থেকে কৃষিকাজ ব্যাহত হতে পারে।

এলাকাবাসীর দাবি, পরিকল্পিতভাবে ফসলি জমি নষ্ট করে ভবিষ্যতে আশপাশের আরও প্রায় ২০০ বিঘা জমিকে পুকুরে রূপান্তরের উদ্দেশ্যেই এভাবে খনন করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শীলমাড়িয়া ইউনিয়নের সড়গাছি গ্রামের কামাল হোসেন ওরফে কামাল মিস্ত্রির সহযোগিতায় বদোপাড়া গ্রামের মন্তাজ আলী, মাহমুদ হাসান মজনু ও মাহাবুর রহমান পুকুর খননের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা বিভিন্ন প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে খনন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রশাসনকে প্রভাবিত করার অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

শীলমাড়িয়া ইউনিয়নের রাতোয়াল গ্রামের কৃষক সুলতান আলীর অভিযোগ, তিনি নিজের জমি পুকুর খননের জন্য দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তার জমির চারপাশে সুতা টানিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেখানে লাল নিশান টাঙানো রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে পুকুর খননকারী কামাল হোসেন বলেন, “কৃষকরা স্বেচ্ছায় জমি দিয়েছেন বলেই পুকুর খনন করা হচ্ছে। কৃষকরা জমি না দিলে পুকুর হবে না।”

এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, “পুঠিয়া উপজেলায় ফসলি জমিতে অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। পুকুর খননবিরোধী অভিযান অব্যাহত আছে। যেখানে খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন