স্ত্রীসহ গোদাগাড়ী থানার ওসির কক্ষে মাদক কারবারি আজাদ

তথ্য ফাঁস ও মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬; সময়: ৪:২৯ pm | 
খবর > রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ৭টি মাদক মামলার আসামি ও ৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদকে সম্প্রতি তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানায় ওসির সঙ্গে দেখা করতে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে-এমন একটি ছবি ও তথ্য এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মহিশালবাড়ী সাগরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ তার স্ত্রী আরমিনা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানায় যান। ওই সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান উপস্থিত না থাকায় আবুল কালামকে ওসির কক্ষে বা অফিসসংলগ্ন এলাকায় বসে অপেক্ষা করতে এবং তার স্ত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বলে সূত্রটি জানায়।

এদিকে, গত ২৩ জুন গোদাগাড়ীতে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলার মাদক সমস্যা ও চিহ্নিত মাদক কারবারিদের বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সভা ও মাদকবিরোধী কর্মসূচি চললেও মাঠপর্যায়ে পুলিশের অভিযান তেমন জোরালো নয়। গত কয়েক দিন ধরে মাদকবিরোধী অভিযান কার্যত কমে গেছে বলেও পুলিশের একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চিহ্নিত মাদক কারবারিদের কেউ কেউ থানায় যাতায়াত করছেন এবং পুলিশের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এমনকি মাদকবিরোধী সমাবেশের আগে তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর আলম থানায় গিয়ে ওসির সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাকে বিশেষভাবে আপ্যায়ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, গত ১৭ এপ্রিল তিনি থানায় যোগ দিয়েছেন। থানার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত আছে। কারও অভিযোগ থাকলে ফুটেজ যাচাই করে দেখার আহ্বান জানান তিনি। জাহাঙ্গীর আলমের থানায় যাওয়া বা তাকে আপ্যায়নের অভিযোগও অস্বীকার করেন ওসি।

এদিকে, মাদকবিরোধী অভিযানের তথ্য ফাঁস এবং মাদক কারবারিদের সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে থানার এসআই সোহেলের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে পুলিশকে দেওয়া তথ্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে যায়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই সোহেল বলেন, তিনি এই থানায় মাত্র এক মাস আগে যোগ দিয়েছেন। এলাকার রাস্তাঘাট ও মাদক কারবারিদেরও ঠিকমতো চেনেন না। ফলে এমন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

এর আগে গত ১১ জুলাই আবুল কালাম আজাদকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।

এ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি উত্তেজিত হয়ে অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং প্রতিবেদককে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি ও সমাজ বিশ্লেষক সফি উদ্দীন আহমেদ বলেন, মাদক ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় এর সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের যোগসাজশের অভিযোগ পাওয়া যায়। মাদকবিরোধী অভিযান ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি প্রশংসনীয় হলেও এসব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পুলিশ সদস্য বা অন্য কেউ মাদক কারবারিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে কঠোর তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সচেতন মহলের দাবি, মাদক মামলার আসামি ও সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের থানায় যাতায়াত, পুলিশের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ এবং মাদকবিরোধী অভিযানে কোনো ধরনের গাফিলতি বা তথ্য ফাঁসের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গোদাগাড়ীতে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করে প্রকৃত মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন