রূপপুরে গ্রিনসিটির দেয়ালজুড়ে দৃষ্টিনন্দন গ্রাফিতি

প্রকাশিত: অক্টোবর ৪, ২০২৩; সময়: ১:৪৮ pm | 
খবর > আঞ্চলিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঈশ্বরদী : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আবাসিক ‘গ্রিন সিটি’ এলাকার সীমানা প্রাচীরে দৃষ্টিনন্দন গ্রাফিতি আর্ট করা হয়েছে। এই গ্রাফিতি আর্ট রুশ-বাংলাদেশিদের বন্ধুত্বে বদলে যাওয়া এক জনপদের গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

বুধবার দিয়াড় সাহাপুর গ্রামের আবাসিক এলাকা গ্রিন সিটির সামনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত বিদেশি নাগরিকের উদ্যোগে সীমানা প্রাচীর গুলোতে ব্যানার-পোস্টার তুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সাদা রঙ করা হয়েছে।

ধবধবে সাদা রঙের ক্যানভাসে ফুটে উঠছে চোখজুড়ানো গ্রাফিতি। তাতে শোভা পাচ্ছে দেশীয় সংষ্কৃতি, বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্ক এবং শিক্ষণীয় বিষয়। ইতোমধ্যে দৃষ্টিনন্দন করা সীমানা প্রাচীরগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

পিলারের একপাশে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, রূপপুর প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, নবায়নযোগ্য শক্তি, কার্বন মুক্ত বিদ্যুৎ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, ভালবাসার রূপপুর, ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালন শাহ সেতু, পাকশী ফুরফুরা শরীফ, গৌরবের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অর্জন তুলে ধরা হয়েছে।

একটিতে এক কিশোর চারা গাছ লাগাচ্ছে, আরেক কিশোরীরা বই নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। আর আরেকটি সীমানা প্রাচীরে ফুল, পাখি, সূর্য এবং আরেকটিতে ফুলের নকশার সঙ্গে নৌকা দিয়ে অবহমান বাংলার সংষ্কৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এসময় অনেকেই মোবাইলের ক্যামেরায় বন্দি করছেন সেই দৃশ্য।

ঈশ্বরদী শহরের একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের চাকুরিজীবি নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গেলে পিলারে, দেয়ালের পোস্টার, ব্যানারই চোখে পড়ে। এর মধ্যে বিদেশি নাগরিকের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংনীয়।’

সাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ঈশ্বরদী শহরে এমনিতেই সৌন্দর্য বলতে কিছু নেই। এখন যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যা দৃষ্টিদূষণ অনেকটাই কমাবে।

বিশেষ করে দেশের বাইরে থেকে যেসব বিশিষ্টজনেরা দেশে আসেন তাদের কাছেও ছোট হতে হবে না। পুরো ঈশ্বরদীতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হোক।’

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সাংস্কৃতিক সম্পাদক মিয়া মুহাম্মদ আহমেদুল কবীর রাসেল বলেন, আশা করি এ উদ্যোগে নিত্যনতুন বিষয় যুক্ত হবে।’

সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর বলেছেন, সুন্দর সীমানা প্রাচীরগুলোতে পোস্টার লাগাবেন না। শহরকে রক্ষায় আপনাদের এগিয়ে আসতে হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ধরনের গ্রাফিতি কার্যক্রম রয়েছে। আমরাও কিন্তু চাইলেই পারি। সবাই সচেতন হলে আমরা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পারব।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবীর কুমার দাশ বলেন, সৌন্দর্য রক্ষায় সরকার ২০১২ সালে ‘দেওয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১২’ প্রণয়ন করে। এ আইনের ধারা ৪ অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে দেওয়াল লিখন বা পোস্টার লাগানো যাবে না।

 

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন