চীনে আবিষ্কৃত ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সোনার খনি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: চীনে ১৯৪৯ সালের পর সবচেয়ে বড় স্বর্ণভান্ডারের সন্ধান মিলেছে। লিয়াওনিং প্রদেশে আবিষ্কৃত দাদংগোউ নামের এই খনিতে রয়েছে প্রায় ১,৪৪৪ টন স্বর্ণ—যা দেশটির ইতিহাসে এককভাবে সর্ববৃহৎ আবিষ্কার।
মাত্র ১৫ মাসের অনুসন্ধানে রাষ্ট্র পরিচালিত লিয়াওনিং জিওলজিক্যাল অ্যান্ড মাইনিং গ্রুপ প্রায় এক হাজার বিশেষজ্ঞ ও কর্মী নিয়ে এই বিশাল মজুত শনাক্ত করে। কর্মকর্তাদের তথ্য মতে, এখানে মোট ২৫.৮৬ লাখ টন আকরিক রয়েছে, যার প্রতিটন থেকে গড়ে ০.৫৬ গ্রাম স্বর্ণ উত্তোলন সম্ভব।
বর্তমান বাজারদরে এ স্বর্ণের মূল্য দাঁড়ায় ১৬৬ বিলিয়ন ইউরোর বেশি। এ বছর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম রেকর্ড ছুঁয়েছে; প্রতি কেজি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১,১৫,০০০ ইউরোর বেশি দামে।
প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মজুতটি ‘অতি-বিশাল’ হলেও আকরিকের মান তুলনামূলক কম। তবে এর অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা নিয়ে প্রাথমিক মূল্যায়ন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কৌশলগত কারণে খনির সুনির্দিষ্ট অবস্থান গোপন রাখা হয়েছে—শুধু জানানো হয়েছে এটি লিয়াওনিং প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।
বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের চাহিদা দ্রুত বাড়ার সময়েই এ আবিষ্কার সামনে এলো। দুর্বল মার্কিন ডলার, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ কেনার প্রবণতা মিলিয়ে এ বছর স্বর্ণের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন খনিজ অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে। ২০২৪ সালে দেশটি হুনান প্রদেশে ১,০০০ টনেরও বড় স্বর্ণভান্ডার এবং গানসু প্রদেশে ৪০ টনের আরেকটি খনি আবিষ্কার করে। সে বছর চীন উৎপাদন করে ৩৭৭.২৪ টন স্বর্ণ, যেখানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ছিল প্রায় ৯৮৫ টন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে সম্পদ সুরক্ষার প্রবণতা বাড়ায় স্বর্ণ এখন দ্রুত জনপ্রিয় ‘নিরাপদ বিনিয়োগে’ পরিণত হয়েছে।
নতুন এই আবিষ্কার চীনের স্বর্ণ রিজার্ভ ও বৈশ্বিক বাজারে দেশটির প্রভাব আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




