রাজশাহীতে দুই লাখ টাকায় মাদক কারবারিকে ছাড়

প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৬; সময়: ৯:৪৩ pm | 
খবর > রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর চারঘাট থানার ওসি (তদন্ত) নাসির উদ্দিন তুহিনের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মাদক ব্যবসায়ী হাসানের ফেলে যাওয়া ফেনসিডিল জব্দ দেখানো হলেও মাদক বহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কোনো মামলা না করেই দুই লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছেন ওসি (তদন্ত) তুহিনের কথিত ‘শ্যালক’ ও বাঘা উপজেলার আড়ানি এলাকার মাদক কারবারি আশিক- এমনটিও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি থানার দুই উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজ ও লাল মিয়া এ ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। গত ২৪ মে রাতে ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই রাতে এসআই সিরাজ ও লাল মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ পাটিয়াকান্দি সেতু এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ী হাসান মোটরসাইকেল ও একটি বস্তায় থাকা প্রায় ১০০ বোতল ফেনসিডিল ফেলে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেল ও ফেনসিডিল জব্দ করে।

এরপর শুরু হয় ভিন্ন প্রক্রিয়া। অভিযোগে বলা হয়, জব্দকৃত মালামাল থানায় পৌঁছানোর আগেই বিষয়টি হাসান ও ওসি (তদন্ত) তুহিনের কথিত ‘শ্যালক’ আশিকের মাধ্যমে জানানো হয়। পরে বিষয়টি তুহিন পর্যন্ত পৌঁছালে থানার বাইরে একটি স্থানে মোটরসাইকেল রেখে শুধু ফেনসিডিল থানায় নেওয়া হয়। এরপর গভীর রাত থেকে শুরু হয় দেনদরবার। পরদিন ২৫ মে সকালে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে সমঝোতা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ চুক্তির পর হাসানকে মামলার আওতায় না এনে মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়া হয় এবং মাত্র ৯৯ বোতল ফেনসিডিল জব্দ দেখানো হয়।

ঘটনা জানাজানি হলে ২৭ মে এসআই সিরাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযানে না যাওয়ার দাবি করেন। তার ভাষ্য, তিনি ঈদের ছুটিতে ছিলেন এবং ফেনসিডিল জব্দের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। অন্যদিকে এসআই লাল মিয়া দাবি করেন, তিনি ওই অভিযানে যাননি এবং সিরাজের বক্তব্য সঠিক নয়।

পরবর্তীতে সিরাজ আবারও ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই এবং ছুটি থেকে ফিরে জানাবেন। পরে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য এড়িয়ে যান এবং কোনো স্পষ্ট তথ্য দেননি। একইভাবে আরেক দফা যোগাযোগেও তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এদিকে মোটরসাইকেল সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি হয়তো ‘নেগোশিয়েশন’ হয়েছে, তবে কে টাকা নিয়েছে তা তিনি জানেন না এবং এ বিষয়ে আর না ঘাঁটতে অনুরোধ করেন।

জানা যায়, ওসি (তদন্ত) নাসির উদ্দিন তুহিন গত বছরের মার্চে বাঘা থানায় যোগ দেন। এরপর থেকেই বাঘার একাধিক মাদক কারবারির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়ভাবে তার সঙ্গে বাঘার মাদক কারবারি আশিকের সম্পর্ক ‘ওপেন সিক্রেট’ বলেও দাবি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, মাদক কারবারি আশিক দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে পূর্বে মামলা ছিল, তবে তিনি খালাস পেয়েছেন। তিনি কোনো মধ্যস্থতার সঙ্গে জড়িত নন বলেও জানান।

মাদক ব্যবসায়ী হাসানের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, মোটরসাইকেল ও ফেনসিডিল ফেলে পালানোর বিষয়টি সঠিক নয় এবং তাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে।

অভিযুক্ত ওসি (তদন্ত) নাসির উদ্দিন তুহিন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জিডিমূলে ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। আশিকের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই এবং টাকার বিনিময়ে মামলা না দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন