অর্থনৈতিক সংকটে ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট দিয়েছে সরকার

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬; সময়: ৫:২১ pm | 
খবর > অর্থনীতি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, সুষম উন্নয়ন এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল ও চিনিসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহ এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনাও প্রশংসিত হয়েছে।

তবে বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)সহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, রাজস্ব আহরণের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও প্রশাসনিক দক্ষতা প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান বাস্তবতায় সহজ নয়।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রত্যাশিত রাজস্ব অর্জিত না হলে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর চাপ বাড়তে পারে। এর ফলে সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে সরকারের কার্যকর তদারকি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও তারা মনে করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রথমত, কর আদায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কর প্রদানের সংস্কৃতি গড়ে তোলা। জনগণের মধ্যে এই উপলব্ধি তৈরি করতে হবে যে তাদের দেওয়া কর দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেই ব্যয় করা হয়।

দ্বিতীয়ত, দুর্নীতি ও অপচয় রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দুর্নীতি ও অপচয়ের কারণে নষ্ট হয়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তৃতীয়ত, অর্থ পাচার রোধ এবং পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জোরদার করা। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিগত বছরগুলোতে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি নতুন করে অর্থ পাচার ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, কর আদায় বৃদ্ধি, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থ পাচার রোধ -এই তিন ক্ষেত্রে কার্যকর অগ্রগতি অর্জন করা গেলে বাজেট বাস্তবায়নের পথ অনেকটাই সহজ হবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তিও আরও শক্তিশালী হবে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন