পুঠিয়ায় জমির বিরোধে আদিবাসী পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট

প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬; সময়: ৯:৩৩ pm | 
খবর > রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক, পুঠিয়া : রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ধোকড়াকুল মৌজায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি আদিবাসী পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, বসতভিটার জায়গা দখল, পুকুরের মাছ ধরে নেওয়া এবং গাছপালা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ জুন সকাল ১১টার দিকে একদল লোক সংঘবদ্ধভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

ভুক্তভোগী রাসন্তি জানান, পৈতৃক জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করলেও প্রতিপক্ষ এসে তাদের বাড়িঘর ভেঙে ফেলে এবং ঘরে থাকা টাকা-পয়সা নিয়ে যায়।

আরেক ভুক্তভোগী কাকলি বলেন, বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির কথা থাকলেও প্রতিপক্ষ কোনো আলোচনা ছাড়াই বাড়িতে হামলা চালায়। তাদের দাবি, জমি ক্রয়ের বৈধ দলিল থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রতিবেশী বাসন্তী জানান, তিনি ও তার মেয়ে বাড়িতে থাকা অবস্থায় একদল লোক এসে কোনো কথা ছাড়াই ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে এবং মালামাল নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী বাবলু সরকার বলেন, হামলার সময় তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশ আসার আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধোকড়াকুল মৌজার জে.এল. নম্বর ২০৩-এর হাল দাগ নম্বর ৩১৭১ ও ৩১৫৭-এর মোট ৩৭ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

অভিযোগকারী সেলিনা সরকার দাবি করেন, তার দাদা শ্রী আকালু সরকার এবং পরবর্তীতে তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বৈধ ওয়ারিশ হিসেবে জমির মালিকানা ভোগ করছেন। তবে প্রতিপক্ষ পূর্বে বিক্রয়কৃত জমির মালিকানা দাবি করে বিরোধ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে নির্মিত বসতঘর ভেঙে ফেলে। এ সময় ঘরে থাকা নগদ এক লাখ টাকা ও প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত মোস্তফা অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, “তারা কাগজপত্র নিয়ে আসুক, তারপর কথা হবে।” তবে তার স্ত্রী বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, “ঘটনার বিষয়টি জেনে খারাপ লাগছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন