ভারতে শিশুর দেহে বার্ড ফ্লু শনাক্ত

প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৪; সময়: ৩:৩১ অপরাহ্ণ |
ভারতে শিশুর দেহে বার্ড ফ্লু শনাক্ত

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এক শিশুর দেহে বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

ডব্লিউএইচও জানায়, শনাক্ত হওয়া ভাইরাসটির ধরন ‘এইচ৯এন২’। আক্রান্ত শিশুটির বয়স চার বছর। সে ভারতের দ্বিতীয়জন হিসেবে ভাইরাসটির এ ধরনে আক্রান্ত হলো। এর আগে ২০১৯ সালে দেশটিতে প্রথমবারের মতো মানুষের দেহে ভাইরাসটির এ ধরন শনাক্ত হয়েছিল।

ভাইরাসটিতে আক্রান্ত শিশুটির হাল জানাতে গিয়ে ডব্লিউএইচও বলে, শিশুটি তীব্র শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও পাকস্থলির সমস্যায় ভোগে। তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শিশুটির অবস্থা এতই নাজুক হয়ে পড়ে যে তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সে প্রায় তিন মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে বাড়ি ফেরার ছাড়পত্র পায়। এ ঘটনাটি গত ফেব্রুয়ারি মাসের বলেও জানায় ডব্লিউএইচও।

খবর পেয়ে শিশুটির ব্যাপারে খোঁজ নেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তারা কেস স্টাডি শুরু করে। জানা যায়, আক্রান্ত শিশুটির বাড়ির আশপাশে হাঁস-মুরগি আছে। এসবের সংস্পর্শে ছিল শিশুটি। তার পরিবারের লোকজনও এসব প্রাণির সংস্পর্শে আসে। তবে অন্য কারও দেহে ভাইরাসটির অস্তিত্ব মেলেনি।

এ মাসের শুরুতে ডব্লিউএইচও মেক্সিকোতে বার্ড ফ্লু ভাইরাসের নতুন ধরনে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর জানায়। আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে ‘এইচ৫এন২’ ধরন সংক্রমিত হয়েছিল। বিশ্বে প্রথমবারের মতো মানুষের দেহে ধরনটি শনাক্ত হয় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি মারা যান।

৬ জুন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বরাতে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ এপ্রিল ৫৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি মারা যান। তার জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও বমি বমি ভাবের লক্ষণ ছিল। তার অবস্থা খুব শোচনীয় হয়ে পড়ে। এতে তিন সপ্তাহ ধরে তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন।

মারা যাওয়া ব্যক্তি আগে থেকে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিলেন। মেক্সিকোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ দাবি করেছে। তারা বলছে, ওই ব্যক্তি কিডনি রোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন।

আরেকটি তথ্য সংশ্লিষ্টদের ভাবিয়ে তুলেছে। ওই ব্যক্তির সরাসরি খামার বা অন্য প্রাণির সংস্পর্শে আসার ইতিহাস নেই। এতে ভাইরাসের উৎস খোঁজা আরও জটিল হয়ে গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তার বাড়ির আশপাশের খামার নজরদারিতে রেখেছে। ওই এলাকার গবাদিপশু-পাখি এবং মানুষের মধ্যে ভাইরাসটির উপস্থিতি আছে কি না তা যাচাইয়ের চেষ্টা চলছে।

এর আগেও মেক্সিকোর খামারগুলোতে ‘এইচ৫এন২’ ধরনের সংক্রমণ দেখা গেছে। তবে কোনো মানুষের এতে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা এটিই ছিল প্রথম।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে