থার্টি ফার্স্ট উদযাপন : আনন্দের মাঝে দায়িত্বশীলতার তাগিদ

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩০, ২০২৪; সময়: ১১:০৮ am | 
খবর > মতামত

বদিউল আলম লিংকন : নতুন বছর, নতুন ভাবনা। নতুন বছরের কড়া নাড়ায় সবাই তাকিয়ে থাকে এক নতুন সূর্যের দিকে। খ্রিষ্টীয় ক্যালেন্ডারের আরেকটি বছর শেষ হতে চলেছে। এই সময়ে মানুষ তাদের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, সাফল্য ও ব্যর্থতার হিসাব মেলাতে বসে। আবার নতুন বছরে কীভাবে এগিয়ে যাবে, সেই পরিকল্পনাও করে।

আমাদের জীবনে বছর শেষে এভাবেই নতুন আশা ও স্বপ্ন যোগ হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই পরিকল্পনা ও স্বপ্নগুলো কতটা ইতিবাচক ও মানবিক? বর্তমান সময়ে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন যেমন আনন্দের উপলক্ষ, তেমনি এর সাথে পরিবেশ ও মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিও গভীরভাবে জড়িত।

একটি বছর কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় শেষ হয় না; তার সাথে মিশে থাকে আমাদের দায়িত্ব, চিন্তা, ও প্রত্যাশার ভার। তাই আসুন, নতুন বছরের সূচনা হোক নতুন চিন্তার, যেখানে আনন্দ আর দায়িত্ব একসঙ্গে হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাবে।

২০২৪ সাল শেষ হতে আর মাত্র কয়েকটি দিন বাকি। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে দেশজুড়ে থার্টি ফার্স্ট নাইটের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। উৎসবের আমেজে মেতে ওঠার মাঝে যে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো পরিবেশ ও মানুষের নিরাপত্তা।

বিগত বছরগুলোতে থার্টি ফার্স্ট উদ্‌যাপন ঘিরে যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার উৎসবকে আরও নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।

থার্টি ফার্স্ট নাইটের একটি সাধারণ চিত্র হলো আতশবাজি ফোটানো ও ফানুস ওড়ানো। এই কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয় প্রকৃতি। শহরের মুষ্টিমেয় পাখি আতশবাজির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে মারা যায় বা বাসস্থান ছেড়ে পালায়। এর পাশাপাশি, ফানুসের আগুন বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পড়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটানোর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

এছাড়াও আতশবাজি ফোটানোর সময় দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অনেক মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হন। বিশেষত শিশুদের মধ্যে এই ধরনের দুর্ঘটনার হার উদ্বেগজনক। আর শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ তো রয়েছেই।

প্রতিবছর থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে বাস্তবে এগুলো কার্যকর করার ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে যায়। আতশবাজি ও ফানুসের অবাধ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে বিক্রি ও মজুদ নিষিদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বিশেষজ্ঞরা বহুবার বলেছেন।

একটি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব উৎসব উদ্‌যাপন করতে নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। আতশবাজি ও ফানুসের মতো ক্ষতিকর অনুষঙ্গ এড়িয়ে ঘরে ঘরে শান্তিপূর্ণভাবে উদ্‌যাপন করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

নতুন বছরকে উদযাপনের আনন্দ যাতে কারও জন্য দুঃখ বয়ে না আনে, সেদিকে সবার দৃষ্টি দেওয়া উচিত। আমরা আশা করি, ২০২৪ সালের শেষ রাত ও ২০২৫ সালের শুরু যেন হয়ে ওঠে এক আনন্দঘন, নিরাপদ ও দায়িত্বশীল উদাহরণ।

নতুন বছরের সূচনা উদ্‌যাপনের মধ্যে দিয়ে আমরা যেন প্রকৃতি, প্রাণী ও মানুষের প্রতি আমাদের দায়িত্ব স্মরণ করি। আনন্দের এই মুহূর্তে একসঙ্গে উৎসব করতে গিয়ে যেন কারও ক্ষতি না হয়-এই ভাবনাই নতুন বছরের অঙ্গীকার হয়ে উঠুক।

আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি রাত তৈরি করি, যা হবে নিরাপত্তা, সচেতনতা এবং মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন