বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভাঙা নিয়ে প্রশ্নে নীরব ইউনূস

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি ভাঙার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করেই এড়িয়ে গেলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তবে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি ‘শান্ত’ এবং রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠাই তার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
বুধবার (১১ জুন) যুক্তরাজ্যের লন্ডনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউজের রয়্যাল ইন্সটিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স আয়োজিত এক সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবেদনশীল প্রশ্নে এড়িয়ে যাওয়া
সংলাপে প্রবাসী এক সাংবাদিক প্রশ্ন তোলেন, “আপনি যখন বাংলাদেশে দায়িত্ব নেন, তখন ঐক্যের কথা বলেছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো প্রশাসনের নীরবতার মধ্যেই। এতে বিভাজন তৈরি হয়েছে। তাহলে কীভাবে ঐক্য গড়তে চান?”
জবাবে মুহাম্মদ ইউনূস ৩২ নম্বর বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে বলেন, “এখন আমরা সবকিছু সামাল দিতে পারছি। পরিস্থিতি শান্ত, শৃঙ্খলায় এসেছে, এবং আমরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড় কাজ ছিল জাতিকে শৃঙ্খলায় আনা। আমাদের পুলিশ বাহিনীও তখন ভয় আর আস্থাহীনতায় ভুগছিল।”
পুলিশ নিয়ে আস্থা ফেরানোর চেষ্টা
পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে ইউনূস বলেন, “পুলিশ সদস্যদের অনেকেই অভিযুক্ত ছিল, কেউ গুলি করেছে, কেউ গুমে জড়িত ছিল। তাই জনগণ তাদের বিশ্বাস করছিল না। এখন আমরা সে চিত্র বদলেছি। যারা নৃশংসতায় জড়িত ছিল, তাদের শনাক্ত করে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বিচার চলছে।”
তিনি বলেন, “এখন মানুষ পুলিশকে গ্রহণ করছে। আমাদের কাছে যথেষ্ট ভিডিও প্রমাণ আছে—কারা অপরাধ করেছে, তা শনাক্ত করা হয়েছে।”
ঐক্য গঠনের প্রত্যয়
ঐক্য প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইউনূস বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্যই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা। আমরা সবাইকে নিয়ে বসছি, আলোচনা করছি। জুলাই মাসেই সব দলের উপস্থিতিতে ‘জুলাই চার্টার’ ঘোষণা করা হবে বলে আশা করছি।”
তিনি এটিকে বাংলাদেশের জন্য ‘সবচেয়ে বড় ঐক্য’ বলে উল্লেখ করেন।
৩২ নম্বর বাড়ির প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘বুলডোজার মিছিল’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক বাড়িটি আনুষ্ঠানিকভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, যা দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
এই ঐতিহাসিক ঘটনার ছায়া লন্ডনের সংলাপেও পড়েছে, কিন্তু এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিতে এড়িয়েই গেলেন ইউনূস।




