এপ্রিলেই নির্বাচিত সরকার, এরপর আমরা সরে যাব: ড. ইউনূস

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৫; সময়: ৫:২৯ pm | 
খবর > জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আগামী এপ্রিলের মধ্যেই দেশ একটি নির্বাচিত সরকার পাবে এবং এরপর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব থেকে সরে যাবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান–কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী এই অর্থনীতিবিদ।

সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে আসেন। তার ভাষায়, “আমাদের শুরুটা ছিল এক ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি, এক বিপর্যস্ত সমাজ নিয়ে। প্রশাসন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল।”

তিনি বলেন, “ব্যাংকগুলো এমনভাবে ঋণ দিয়েছে যেন তা উপহার—ফিরে আসার কোনও সম্ভাবনাই নেই। দেশের সম্পদ লুটপাট হয়েছে অবাধে।”

ড. ইউনূসের মতে, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে গ্রাম থেকে রাজধানী পর্যন্ত দুর্নীতি দূর করতে হবে। তিনি বলেন, “সরকারি ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি, ঘুষ, আত্মসাৎ চলমান। পাসপোর্ট, লাইসেন্স—সবকিছুতেই ঘুষ লাগে। ফলে মানুষ সরকারকে তাদের চিরশত্রু ভাবতে শুরু করেছে।”

সাবেক সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাকে ‘একনায়কতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে ইউনূস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ, বিরোধীদের দমন ও ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলা হয়েছিল।

তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে গঠিত কয়েকটি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী জুলাইয়ে এই সংস্কার ভিত্তিক ‘জুলাই সনদ’ নামে একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে সব দলকে একত্রিত করার চেষ্টা চলছে। এই চুক্তির মাধ্যমেই এপ্রিলের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

ড. ইউনূস বলেন, “এই চুক্তি হবে ঐতিহাসিক। এটা শুধু ছোটখাটো সংস্কারের কথা নয়, বরং গোটা রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও শাসনব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর কথা। তারপর আমরা গর্ব করে বলতে পারব—একটি নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে।”

তবে তিনি স্বীকার করেন, সব পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য আনা সহজ নয়। বিশেষ করে বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চায় এবং প্রধানমন্ত্রী পদে মেয়াদ সীমাবদ্ধতার বিরোধিতা করছে। তবুও বর্তমানে যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটি অতীতে দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন ইউনূস।

তিনি আরও জানান, সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে স্বাস্থ্য, ক্ষুদ্রঋণ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে কাজ বাড়াতে চান তিনি। তার প্রতিষ্ঠিত মাইক্রোক্রেডিট মডেলকে আরও বিস্তৃত করে আনুষ্ঠানিক ব্যাংক ব্যবস্থায় রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান ইউনূস। যদিও এই খাত নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, তিনি বলেন, “মাইক্রোক্রেডিটের কোনও ভুল নেই—ভুল যাদের অপব্যবহার, তাদের।”

ড. ইউনূস বলেন, “আগে আওয়ামী লীগের লোকেরা আমাকে আক্রমণ করত, এখন সবাই করে। কিন্তু এই দায়িত্বে থাকলে সেটাই স্বাভাবিক।” তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, “এপ্রিলের পর আমরা একটি নির্বাচিত সরকার দেখতে পাব এবং আমরা চুপচাপ সরে যাব।”

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন