রাজশাহীতে ঋণের চাপে একই ঘরে নিভে গেল চার প্রাণ

প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৫; সময়: ৩:২০ pm | 
খবর > রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পবা উপজেলার বামনশিকড় গ্রাম-একটি সাধারণ গ্রাম্য ভোরে যখন সূর্য উঠছিল, তখনই চারটি প্রাণ নিথর হয়ে পড়ে ছিল একটি ঘরে। স্বামী-স্ত্রী ও তাদের দুই সন্তান-সবাই এক রাতেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাতের কোনো একসময় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকালে খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। নিহতরা হলেন মিনারুল ইসলাম (৩৫), তার স্ত্রী মনিরা খাতুন (২৮), ছেলে মাহিম (১৪) এবং তিন বছরের মেয়ে মিথিলা।

শেষ চিঠি: অভাবের কষ্ট, মৃত্যুর সিদ্ধান্ত

পুলিশ তাদের বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে একটি চিরকুট, যা ধারণা করা হচ্ছে মিনারুলের লেখা। তাতে লেখা রয়েছে এক ভয়ংকর স্বীকারোক্তি-স্ত্রী ও সন্তানদের শ্বাসরোধে হত্যার পর তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

চিঠিতে মিনারুল লিখেছেন,

ঋণের বোঝা ও খাওয়ার অভাবে এই পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। এক পৃষ্ঠায় তিনি স্পষ্টভাবে লিখেছেন,

“আমি প্রথমে আমার স্ত্রীকে মেরেছি, তারপর ছেলেকে, তারপর মেয়েকে। এরপর আমি গলায় ফাঁস দেব। এই মৃত্যুর জন্য কারো কোনো দোষ নেই।”

আরেক পৃষ্ঠায় উঠে এসেছে জীবনের অসহনীয় চাপের কথা-

“আমি একা যদি মরে যাই, আমার স্ত্রী-সন্তানরা কার আশায় বাঁচবে? কষ্ট ছাড়া কিছু পাবে না। আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে।”

তিনি এমনকি নিজের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় কারা আসবেন বা আসবেন না, সেটিও লিখে গেছেন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা

মতিহার থানার পুলিশ, সিআইডি এবং পিবিআই ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। রাজশাহী নগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান জানান, প্রাথমিকভাবে স্ত্রী ও সন্তানদের শ্বাসরোধে হত্যার পর মিনারুল আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঋণ ও অভাবের চাপে ভেঙে পড়া পরিবার

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মিনারুল দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে ছিলেন। পরিবারের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। চিরকুটেও উঠে এসেছে সেই অসহায় অবস্থা-

“আমার বাবা আমার জন্য অনেক মানুষের কাছে ছোট হয়েছে, আর হতে হবে না। চিরদিনের জন্য চলে গেলাম।”

এই একটি রাত যেন পুরো গ্রামকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। যেখানে ছিল চারজনের হাসি-কান্না, সেখানেই এখন শোকের নিস্তব্ধতা।

 

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন