দুর্গাপূজার আগে ভারতে গেল মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার কেজি ইলিশ

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও ভারতকে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। এ বছর ১২ লাখ কেজি ইলিশ রপ্তানির অনুমতি থাকলেও গত সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার কেজি। অনুমতির মেয়াদ রয়েছে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইলিশ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৬ লাখ ৩৭ হাজার ডলার বা প্রায় ২০ কোটি টাকা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া ৩৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১৬টি প্রতিষ্ঠান রপ্তানি করেছে। বাকি ২১টি প্রতিষ্ঠান কোনো চালানই পাঠাতে পারেনি। রপ্তানি হয়েছে মূলত বেনাপোল ও আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে।
চট্টগ্রামের কালুরঘাটের প্যাসিফিক সি ফুডস ৪০ হাজার কেজি ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পেলেও মাত্র দেড় হাজার কেজি পাঠিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আবদুল মান্নান জানান, স্থানীয় বাজারে ইলিশের দাম কমতে পারে- এই আশায় রপ্তানি বিলম্বিত করা হয়েছিল। তবে দাম না কমায় রপ্তানিতে লোকসান গুনতে হয়েছে। ফলে তারা রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন।
ভারতের বাজারে বাংলাদেশের চেয়ে মিয়ানমারের ইলিশ তুলনামূলক সস্তা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে (এপ্রিল-মার্চ) ভারত মিয়ানমার থেকে সাড়ে ৬ লাখ কেজি ইলিশ আমদানি করেছে গড়ে ৬ ডলার ২৩ সেন্ট দরে। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করেছে ৫ লাখ ৪২ হাজার কেজি, গড়ে ১০ ডলার ৯৩ সেন্ট দরে। ফলে ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশের ইলিশ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।
এনবিআরের তথ্য বলছে, ইলিশ রপ্তানি প্রথম শুরু হয় ২০১৯-২০ অর্থবছরে। সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে- ১৭ লাখ কেজি। আর সবচেয়ে কম রপ্তানি হয়েছিল ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪ লাখ ৭৬ হাজার কেজি। সেই হিসাবে এবারই সবচেয়ে কম রপ্তানির রেকর্ড হতে যাচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বছর সাড়ে ১২ ডলার (১,৫৩২ টাকা) কেজিপ্রতি ন্যূনতম দর বেঁধে দিয়েছে। এর চেয়ে কমে রপ্তানি করা যাবে না। এ বছর ৪৫টি চালানের মধ্যে ৪৪টিই এই ন্যূনতম দরেই রপ্তানি হয়েছে। কেবল ভোলার রাফিদ এন্টারপ্রাইজ ৪২০ কেজি ইলিশ কেজিপ্রতি ১৩ ডলার ৬০ সেন্টে রপ্তানি করেছে।
প্রতিবারই অনুমতি পাওয়া ইলিশের বড় অংশ রপ্তানি হয় না। গত বছর ২৪ লাখ কেজি ইলিশ রপ্তানির অনুমতি থাকলেও বাস্তবে রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৪ লাখ ৪৪ হাজার কেজি, অর্থাৎ অনুমতির মাত্র ২৩ শতাংশ। এ বছরও এখন পর্যন্ত অনুমতির মাত্র ১১ শতাংশ রপ্তানি হয়েছে।




