মে মাসে মব সহিংসতায় নিহত ৩২

প্রকাশিত: জুন ১, ২০২৬; সময়: ৫:৫৯ pm | 
খবর > জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলতি বছরের মে মাসে দেশে মব সহিংসতায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে এ ধরনের অন্তত ৬৯টি ঘটনায় আরও ৭১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। রোববার সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে মব সহিংসতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মব হামলার সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও হামলার শিকার হচ্ছেন। এপ্রিল মাসে মব সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ছিল ২১ জন, যা মে মাসে বেড়ে ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে আহতের সংখ্যা ৪৯ থেকে বেড়ে ৭১ জন হয়েছে। এমএসএফের মতে, এটি জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে নিহতদের মধ্যে ১৪ জন চুরির অভিযোগে, চারজন বাগবিতণ্ডার জেরে, দুজন ডাকাতির অভিযোগে, দুজন ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে, একজন হত্যার অভিযোগে, একজন অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে, একজন ছিনতাইয়ের অভিযোগে, একজন মাদক চোরাকারবারের অভিযোগে এবং ছয়জন অন্যান্য অভিযোগে মব হামলার শিকার হন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আহতদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জনকে পরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। চলমান মব সহিংসতার কারণে জনমনে নিরাপত্তাবোধ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এদিকে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। মে মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের অন্তত ৩২৬টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় ১২টি বেশি। একই সময়ে ধর্ষণের ঘটনা ৫৪ থেকে বেড়ে ৭০টিতে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, মে মাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ১৬টি এবং ধর্ষণের পর হত্যার ছয়টি ঘটনা ঘটেছে। এপ্রিল মাসে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ছিল দুটি।

তবে রাজনৈতিক সহিংসতার ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নতির আভাস পাওয়া গেছে। মে মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় তিনজন নিহত এবং ১৯৩ জন আহত হয়েছেন। আগের মাসে নিহতের সংখ্যা একই থাকলেও আহতের সংখ্যা ছিল ৩০৩ জন।

এ ছাড়া মে মাসে দেশের বিভিন্ন কারাগারে সাতজন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এপ্রিল মাসে এ সংখ্যা ছিল ছয়, আর মার্চে ছিল ১১ জন। মানবাধিকার পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে এমএসএফ।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন