বাঘায় স্বামীকে কাজে পাঠিয়ে গৃহবধূর সঙ্গে পরকীয়ায় ধরা যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা: রাজশাহীর বাঘায় স্বামীকে কৌশলে বাইরে পাঠিয়ে এক গৃহবধূর সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত অবস্থায় এক যুবককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশ এসে উভয়কে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাতে উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামে। আটক যুবক বিদ্যুৎ প্রামানিক (৪০), তিনি একই গ্রামের মৃত বীরেন্দ্রনাথ প্রামানিকের ছেলে। অপরপক্ষের গৃহবধূ স্থানীয় দিনমজুর সুজন আলীর স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ প্রামানিক ও ওই গৃহবধূর মধ্যে প্রায় তিন বছর ধরে পরকীয়ার সম্পর্ক চলছে। একাধিকবার ধরা পড়লেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে তারা রক্ষা পান। টাকা-পয়সা ও উপহার সামগ্রী দিয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছিলেন বলে জানা গেছে।
বুধবার সকালে গৃহবধূর স্বামী সুজন আলীকে কৌশলে বাইরে কাজে পাঠিয়ে দেন বিদ্যুৎ। নিজের মোটরসাইকেলে করে তাকে বাসে উঠিয়ে দেন। পরে রাতে গৃহবধূর ঘরে গিয়ে তারা আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দা শাকিল আহমেদ জানান, বিষয়টি টের পেয়ে প্রতিবেশীরা দরজা খুলতে বললে গৃহবধূ চিৎকার করে “চোর চোর” বলে পরিস্থিতি আড়াল করতে চেষ্টা করেন। এরপর ঘরে ঢুকে বিদ্যুৎকে না দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। বিছানায় থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি করে দেখা যায়, তিনি আলমারির ভেতরে লুকিয়ে আছেন। আলমারির দরজা খুলে দেখা যায়, তিনি গৃহবধূর স্বামীর লুঙ্গি পরে রয়েছেন।
উত্তেজিত জনতার হাত থেকে রক্ষা পেতে বিদ্যুৎ প্রামানিকের পরিবার ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে বাঘা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়কে থানায় নিয়ে আসে।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে গৃহবধূর স্বামী সুজন আলী বাড়ি ফিরে আসেন।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এএফএম আছাদুজ্জামান বলেন, “অভিযোগ না থাকায় গৃহবধূকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুৎ প্রামানিককে প্রতিরোধমূলক আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “গৃহবধূ দাবি করেছেন, বিদ্যুৎ প্রামানিক তার স্বামীর কাছ থেকে পাওনা টাকা নিতে এসেছিলেন। একই দাবি করেছেন বিদ্যুৎও। তবে যদি কেউ অভিযোগ দেয়, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




