নলডাঙ্গায় খেজুরের রস সংগ্রহে গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত গাছিরা

এম জহুরুল ইসলাম, নলডাঙ্গা: নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার গ্রামাঞ্চলে এখন শুরু হয়েছে খেজুরগাছ পরিচর্যার ব্যস্ততা। হেমন্তের স্নিগ্ধ হাওয়া ও কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল জানান দিচ্ছে শীত আসছে, আর তার সঙ্গে আসছে খেজুরের রস ও গুড়ের মৌসুম।
কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাস মানেই নবান্ন উৎসবের সময়। নতুন ধানের পিঠা-পায়েসের পাশাপাশি এই উৎসবের অন্যতম উপাদান হলো খেজুরের গুড়। তাই এই সময় গাছিরা পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন গাছ ছাঁটাই ও রস সংগ্রহের কাজে।
নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কিষোয়ার হোসেন জানান, উপজেলায় প্রায় ৩৬ হেক্টর জমিতে ৪০ হাজার ৬০০টি খেজুরগাছ রয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার গাছ রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত। চলতি মৌসুমে ৩৬৮ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক সাড়ে ৫ কোটি টাকা।
স্থানীয় গাছিরা বলেন, আশ্বিনের শেষ থেকে কার্তিকের শুরুতেই তারা গাছের পাতা ছাঁটাই ও রস সংগ্রহের প্রস্তুতি নেন। নলডাঙ্গার গুড়ের মান ভালো হওয়ায় এখন অনলাইন ব্যবসায়ীরাও আগ্রহী হচ্ছেন। অনেকেই গাছিদের বাড়ি থেকে সরাসরি নগদ টাকায় গুড় কিনে নিচ্ছেন, ফলে তাদের আর বাজারে যেতে হচ্ছে না- এতে সময় ও পরিবহন খরচ উভয়ই বাঁচছে।
উপজেলার কয়েকজন গাছি জানান, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এখন নলডাঙ্গার গুড় দেশজুড়ে এবং বিদেশেও পৌঁছে যাচ্ছে। এতে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন এবং এই নতুন বাজার ব্যবস্থায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন কাঁচা রস পান নিয়ে। কারণ বাদুড় বা প্রাণীর লালা মিশে গেলে রসটি নিপা ভাইরাসসহ নানা রোগের কারণ হতে পারে। হরিদা খলসী গ্রামের রুবেল হোসেন জানান, চার বছর আগে তাঁর তিন বছরের ছেলে শাফি খেজুরের কাঁচা রস পান করে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তিনি সবাইকে রস খাওয়ার আগে বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “রস সংগ্রহের সময় হাড়ি অবশ্যই জাল বা নেট দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। এতে বাদুড় বা অন্যান্য প্রাণীর সংস্পর্শ এড়ানো সম্ভব হয়, ফলে রস থাকে বিশুদ্ধ ও নিরাপদ।”
খেজুরের রস ও গুড় শুধু শীতের স্বাদ নয়- এটি গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণ এবং বাঙালির ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই বিশুদ্ধতা ও নিরাপত্তা বজায় রেখে এই ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তারা।




