রাণীনগর-আত্রাইয়ে তিন দিনের বৃষ্টিতে তিন হাজার বিঘা ফসল পানিতে

ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৫; সময়: ৬:৪২ pm | 
খবর > কৃষি

ওহেদুল ইসলাম মিলন, রাণীনগর: টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় নওগাঁর রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার হাজারো একর কৃষিজমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে ধান, আলু, সরিষা ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৮ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া আলু, সরিষা, পেঁয়াজ ও শাকসবজি চাষ হয়েছে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে বৃষ্টিতে প্রায় ১,৫৭৫ বিঘা (২১০ হেক্টর) জমির ধান নুয়ে পড়েছে এবং অনেক জায়গায় পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া আলু, সরিষা, পেঁয়াজ ও শাকসবজির প্রায় ১৭৫ বিঘা (২৩ হেক্টর) জমির ফসলও পানিতে ডুবে গেছে।

সিলমাদার গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমি ১৮ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছি। কিন্তু ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় প্রায় ১৫ বিঘা জমির ধান নুয়ে পড়েছে। এতে ফলন অর্ধেকে নেমে আসবে।”

আমিরপুরের কৃষক আফজাল হোসেন জানান, আড়াই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ধান রোপণ করেছিলেন, যার দেড় বিঘা পানিতে নুয়ে পড়েছে।

কালীগ্রামের কৃষক বুলু সরদার বলেন, “আমার আড়াই বিঘা ধান নুয়ে পড়েছে। এখন দ্রুত পানি না নামলে বিঘা প্রতি ৫-৬ মণের বেশি ফলন হবে না।”

রাণীনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “মাঠ থেকে পানি দ্রুত নেমে গেলে ধানের ফলনে বড় ক্ষতি হবে না। তবে বৃষ্টি আরও দীর্ঘস্থায়ী হলে আলু, সরিষা ও পেঁয়াজের ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

আত্রাই উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬,৮৩০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া আলু ৫৬ হেক্টর, সরিষা ৯০ হেক্টর ও বিভিন্ন সবজি ১৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় প্রায় ৭০৫ বিঘা (৯৪ হেক্টর) জমির ধান এবং ১৪৩ বিঘা (১৯ হেক্টর) আলু, ১১৩ বিঘা (১৫ হেক্টর) সরিষা ও ১৬৫ বিঘা (২২ হেক্টর) সবজির জমি পানিতে অর্ধনিমজ্জিত হয়েছে।

কালীকাপুর গ্রামের কৃষক শফিউদ্দীন বলেন, “ভালো দাম পাওয়ার আশায় পাঁচ দিন আগে আড়াই বিঘা জমিতে আলু বপন করেছিলাম। কিন্তু এখন সব পানি ডুবে গেছে, বীজ নষ্ট হয়ে গেছে।”

পাঁচুপুর গ্রামের কৃষক হাফিজ উদ্দীন জানান, “চার দিন আগে সরিষা রোপন করেছিলাম, কিন্তু বৃষ্টিতে সব নষ্ট হয়ে গেছে।”

আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, “যেসব জমি এখনো পানিতে ডুবে আছে, সেগুলোর আলু ও সরিষা ফসল বাঁচানো কঠিন হবে। তবে অধিকাংশ মাঠের ধান পেকে গেছে, ফলে ধানে বড় ক্ষতির আশঙ্কা নেই। যেসব ধান সদ্য শীষ ধরেছে ও নুয়ে পড়েছে, সেগুলোর ক্ষতি তুলনামূলক বেশি হবে।”

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন