ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এবার শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬; সময়: ১১:৪৭ am | 
খবর > আন্তর্জাতিক

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: গত মাসের প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের পর ইরানে ফের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নেমেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রাজধানী তেহরানসহ দেশের একাধিক স্থানে শনিবার এসব কর্মসূচি পালিত হয়।

বিবিসি জানিয়েছে, তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ক্যাম্পাসে বিক্ষোভকারীদের মিছিলের ভিডিও তারা যাচাই করেছে। পরে সেখানে সরকারপন্থিদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের দৃশ্যও দেখা যায়।

একই দিনে রাজধানীর Shahid Beheshti University ও Amirkabir University of Technology-এ অবস্থান কর্মসূচি ও সরকারবিরোধী স্লোগানের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর Mashhad-এ শিক্ষার্থীরা ‘স্বাধীনতা, স্বাধীনতা’ এবং ‘অধিকারের আওয়াজ তোলো’ স্লোগান দেন।

যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, নতুন সেমিস্টারের শুরুতে শত শত শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণ মিছিল করেন। অনেকের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-কে ইঙ্গিত করে তারা ‘স্বৈরশাসকের পতন হোক’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পরে সরকারপন্থিদের পাল্টা সমাবেশ ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে কোনো বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও পারমাণবিক ইস্যু

এদিকে ইরান ঘিরে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সীমিত সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের অভিযোগ- ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে অগ্রসর হচ্ছে। যদিও তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

দুই দেশের কর্মকর্তারা সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে বৈঠক করেছেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে আলোচনায় কিছু অগ্রগতির খবর মিললেও ট্রাম্প পরে বলেন, ‘সম্ভবত আগামী ১০ দিনের মধ্যে’ বিশ্ব জানতে পারবে চুক্তি হবে কি না, নাকি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে। অতীতে তিনি বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে বলেছিলেন, “সহায়তা আসছে।”

হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক

অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে গত মাসে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিকে সবচেয়ে বড় আন্দোলন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (হরানা) দাবি করেছে, ওই দফার বিক্ষোভে অন্তত ৬ হাজার ১৫৯ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ৮০৪ জন বিক্ষোভকারী, ৯২ জন শিশু এবং ২১৪ জন সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রয়েছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। আরও প্রায় ১৭ হাজার মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং নিহতদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা ‘দাঙ্গাবাজদের’ হামলায় নিহত সাধারণ নাগরিক।

বিরোধীদের ভিন্নমত

শনিবারের বিক্ষোভ এমন সময়ে হলো, যখন সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরানের নির্বাসিত বিরোধী গোষ্ঠীর একাংশ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের আশা, এতে কট্টরপন্থি সরকারের দ্রুত পতন ঘটবে।

অন্যদিকে, দেশের ভেতরের ও বাইরে থাকা আরও কয়েকটি বিরোধী গোষ্ঠী বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়েছে- ইরানের জনগণ আসলে কী চায়, তা নিয়েই চলছে বিতর্ক।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন