নিজ আসনেও শুভেন্দুর কাছে ধরাশায়ী মমতা

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে চমকপ্রদ এক ফলাফলে নিজ আসন ভবানীপুরেও পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী তার বিরুদ্ধে জয় পেয়েছেন।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারী ১৫ হাজার ১০৫ ভোটের ব্যবধানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন। নির্বাচনের শুরুতে পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। সোমবার সকালে ভোট গণনার প্রাথমিক পর্যায়ে মমতা প্রায় ১৯ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন, যা তৃণমূলের জন্য স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
তবে সময়ের সঙ্গে পাল্টাতে থাকে ফলাফলের চিত্র। প্রতিটি রাউন্ড শেষে ব্যবধান কমিয়ে আনতে থাকেন শুভেন্দু অধিকারী। শেষ পর্যন্ত ২০ রাউন্ড গণনা শেষে তিনি এগিয়ে গিয়ে জয় নিশ্চিত করেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পান ৫৮ হাজার ৮১২ ভোট, আর শুভেন্দু অধিকারী পান ৭৩ হাজার ৯১৭ ভোট।
দক্ষিণ কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র ভবানীপুর দীর্ঘদিন ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। এই আসনকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র বলা হয়। ফলে এখানে তার পরাজয় রাজ্য রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর প্রার্থীতা শুরু থেকেই আলোচনার জন্ম দেয়। মমতার জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও এই লড়াই কতটা কঠিন হবে- তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে জয়ী হন শুভেন্দু।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই নির্বাচনে শুভেন্দু পান ১ লাখ ৯ হাজার ৬৭৩ ভোট, আর মমতা পান ১ লাখ ৭ হাজার ৯৩৭ ভোট।
যদিও তখন তৃণমূল কংগ্রেস নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধায়ক না হয়েও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন।
তবে এবারের নির্বাচনে চিত্র ভিন্ন। রাজ্যের ২৯৩টি আসনের মধ্যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের পথে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, দলটি প্রায় ২০৭টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে, গত দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধরনের ধাক্কা খেয়ে মাত্র প্রায় ৪০টির মতো আসন পেতে যাচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এটি এক যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।




