রাজশাহীতে কোরবানির চমক “সিমবা” ও “লালু”
২৫ মন ওজনের দুই দানব আকৃতির গরু ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড়

আব্দুল বাতেন: কোরবানির ঈদ সামনে এলেই যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় রাজশাহীর পশুর খামারগুলো। সকাল থেকে গভীর রাত-গরুর যত্ন, খাবার, পরিচর্যা আর ক্রেতাদের আনাগোনায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। আর এই ব্যস্ততার মাঝেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে রাজশাহী মহানগরীর খড়খড়ি বাজার সংলগ্ন বামন শিখর এলাকার ওয়ালী ক্যাটল ফার্ম। কারণ, এখানেই দেখা মিলছে প্রায় এক হাজার কেজি ওজনের দুই বিশালাকৃতির গরু “সিমবা” ও “লালু”-র।
খামারের মালিক আনোয়ার হোসেন আনার শখের বসে ২০১৭ সালে শুরু করেছিলেন গরু মোটাতাজাকরণের কাজ। ছোট পরিসরের সেই উদ্যোগ এখন বড় খামারে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ৫২টি গরু, যার মধ্যে ৩২টি কোরবানির জন্য প্রস্তুত। শাহীওয়াল, ব্রাহামা, উলবারী ও ফ্রিজিয়ানসহ বিভিন্ন জাতের গরু থাকলেও সবার নজর কাড়ছে “সিমবা” ও “লালু”।
প্রায় ২৫ মণ ওজনের ব্রাহামা জাতের “সিমবা” আর একই ওজনের উলবারী জাতের “লালু” যেন একেকটি জীবন্ত আকর্ষণ। বিশাল শরীর, উঁচু গড়ন, বড় শিং আর চোখের আলাদা গঠনের কারণে খামারে ঢুকতেই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আটকে যায় এই দুই গরুর ওপর। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ শুধু এক নজর দেখতে ভিড় করছেন।
রাজশাহীর ওয়ালী ক্যাটল ফার্মে কুরাবানী উপযোগী ২৫ মন ওজনের সিমবা।
খামার মালিক আনোয়ার হোসেন আনার বলেন,
“শখ থেকেই শুরু করেছিলাম। এখন এটা আমার স্বপ্নের খামার। গরুগুলোকে সম্পূর্ণ দেশীয় ঘাস ও দানাদার খাবার খাইয়ে বড় করেছি। কোনো ক্ষতিকর ফিড ব্যবহার করি না। সিমবা আর লালু এবার রাজশাহীর অন্যতম আকর্ষণ হবে বলে আশা করছি।”
তিনি জানান, খাদ্যের দাম বাড়ায় এবার খরচও বেড়েছে কয়েকগুণ। তারপরও বড় দুটি গরুর প্রতিটির দাম ৭ লাখ টাকার বেশি পাওয়ার আশা করছেন। ঢাকার বাজারে নিলে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম উঠতে পারে বলেও ধারণা তার। তবে স্থানীয় বাজার কিংবা খামার থেকেই বিক্রি করতে বেশি আগ্রহী তিনি।
গত বছরের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন এই খামারি। তিনি বলেন,
“গত কোরবানিতে ৩৫টি গরু ছিল। প্রথমদিকে বিক্রি হচ্ছিল না। পরে ঢাকার এক ব্যবসায়ী এসে ২৯টি গরু একসাথে নিয়ে যায়। এবারও ভালো কোনো পার্টি পেলে তাদের কাছেই বিক্রি করতে চাই।”
খামারের কর্মচারীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিন নিয়ম করে ঘাস কাটা, গোসল করানো, খাবার দেওয়া আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় সময় যাচ্ছে তাদের। তারা জানান, প্রতিটি গরুর পেছনে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হয়। নিয়মিত টিকা দেওয়া হলেও কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা ফিড ব্যবহার করা হয় না। ফলে গরুগুলো তুলনামূলকভাবে সুস্থ থাকে।

রাজশাহীর ওয়ালী ক্যাটল ফার্মে কুরাবানী উপযোগী ২৫ মন ওজনের লালু।
এদিকে কোরবানির ঈদ ঘিরে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট রাজশাহী সিটি হাটেও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে পুরোদমে। যদিও এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি কেনাবেচা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি কম থাকায় বড় গরুর দাম কিছুটা কম হলেও ছোট গরুর দাম তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাট ইজারাদার নাজির হোসেন বলেন,
“রাজশাহীর সিটি হাট দেশের অন্যতম পরিচিত পশুর হাট। কোরবানিকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতোয়ার রহমান জানান, জেলার চাহিদার তুলনায় এক লাখেরও বেশি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে ভেটেরিনারি টিমও কাজ করবে।
সব মিলিয়ে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজশাহীর খামারগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। আর সেই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা করে নিয়েছে বিশালাকৃতির দুই গরু-“সিমবা” ও “লালু”।





