ছাত্রাবাসে ঝুলছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর লাশ

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬; সময়: ৫:২২ pm | 
খবর > লিড

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) সংলগ্ন একটি ছাত্রাবাস থেকে মাহফুজুর রহমান (২৩) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১০ জুন) বিকেলে নগরীর আমজাদের মোড় এলাকার আয়েশা টাওয়ার নামের একটি মেস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মাহফুজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সহপাঠীদের সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে তিনি নিজ কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। ওই সময় তিনি মোবাইল ফোনে এক তরুণীর সঙ্গে কথা বলছিলেন বলে জানা যায়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওই তরুণী মাহফুজুরের পাশের কক্ষের এক বন্ধুকে ফোন করে দ্রুত খোঁজ নেওয়ার অনুরোধ করেন।

খবর পেয়ে মেসের অন্য শিক্ষার্থীরা মাহফুজুরের কক্ষের সামনে গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হন সহপাঠীরা।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হন।

মাহফুজুরের সহপাঠী মো. মোবাল্লেক বলেন, ‘প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর ধরে একটি মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন আগে তাদের সম্পর্কে কিছুটা জটিলতা তৈরি হলেও পরে তা মিটে যায়। ঈদের ছুটিতে সবাই বাড়িতে থাকায় সম্প্রতি তার সঙ্গে তেমন যোগাযোগ হয়নি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মরদেহ নামানো হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং কক্ষ থেকে কোনো সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আত্মহত্যার আগ মুহূর্তে তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন বলে জানা গেছে।’

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম কবীর বলেন, ‘মরদেহের সুরতহাল পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন